পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* @ U. শ্ৰীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত—৫ম ভাগ [ ১৮৮৪, মে ২৪ সরল । এক্ষণে বয়স ২৯৩০ হইবে। শেষ জীবনে তিনি এলাহাবাদে বাস করিয়াছিলেন । ৫৮ বৎসর বয়সে র্তার শরীর ত্যাগ হইয়াছিল। তিনি ধ্যানের সময় ঘণ্ট-নিনাদ প্রভৃতি অনেক রকম শুনিতে ও দেখিতে পাইতেন। ভূটান, উত্তর পশ্চিম ও নানাস্থানে অনেক ভ্রমণ করিয়াছিলেন। ঠাকুরকে মাঝে মাঝে দর্শন করিতে আসিতেন। হরি (স্বামী তুরীয়ানন্দ ) তখন তার বাগবাজারের বাড়ীতে ভাইয়েদের সঙ্গে থাকিতেন । General Assemblyতে প্রবেশিকা পৰ্য্যস্ত পড়িয়া আপাততঃ বাড়ীতে ঈশ্বর-চিন্তা শাস্ত্র-পাঠ ও যোগাভ্যাস করিতেন। মাঝে মাঝে শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণেশ্বরে আসিয়া দর্শন করিতেন, ঠাকুর বাগবাজারে বলরামের বাটি গমন করিলে তাহাকে কখনও কখনও ডাকাইয়া পাঠাইতেন । [ বৌদ্ধধৰ্ম্মের কথা–ব্রহ্ম বোধ-স্বরূপ—ঠাকুরকে তোতাপুরীর শিক্ষা ] শ্রীরামকৃষ্ণ ( ভক্তদের প্রতি )—বুদ্ধদেবের কথা অনেক শুনেছি, তিনি দশাবতারের ভিতর একজন অবতার। ব্রহ্ম আচল, অটল, নিষ্ক্রিয় বোধ-স্বরূপ । বুদ্ধি যখন এই বোধ-স্বরূপে লয় হয় তখন ব্রহ্ম-জ্ঞান হয় ; তখন মাহষ বুদ্ধ হয়ে যায় । “দ্যাঙটা বলত, মনের লয় বুদ্ধিতে, বুদ্ধির লয় বোধ-স্বরূপে।” “যতক্ষণ অহং থাকে ততক্ষণ ব্ৰহ্ম জ্ঞান হয় না। ব্ৰহ্ম জ্ঞান হলে, ঈশ্বরকে দর্শন হলে, তবে অহং নিজের বশে আসে ; তা না হ’লে অহংকে বশ করা যায় না। নিজের ছায়াকে ধরা শক্ত ; তবে স্থৰ্য্য মাথার উপর এলে ছায়া আধ হাতের মধ্যে থাকে। বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিক্ষা-ঈশ্বর দর্শন—উপায় সাধুসঙ্গ ] ভক্ত –ঈশ্বর দর্শন কিরূপ ? শ্রীরামকৃষ্ণ—Theatreএ অভিনয় দেখ নাই ? লোক সব পরস্পর কথা কচ্ছে, এমন সময় পর্দা উঠে গেল ; তখন সকলের সমস্ত মনটা অভিনয়ে যায় ; আর বাহদৃষ্টি থাকে না –এরই নাম সমাধিস্থ হওয়া । আবার পর্দা পড়ে গেলে বাহিরে দৃষ্টি। মায়ারূপ যবনিকা পড়ে গেলে আবার মানুষ বহিমুর্থ হয়।”