পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>も、 শ্ৰীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত—৫ম ভাগ [ >bb8,'cग २8 ঘুম হতে পারে। শেষে আসচুপড়ী আনাতে, জল ছিটে দিয়ে নাকের কাছে রেখে, ভোস ভোস করে ঘুমোতে লাগল।”

  • গল্প শুনে কেশবের দলের লোকেরা হো হো করে হাসতে লাগল।” “কেশব সন্ধ্যার পর ঘাটে উপাসনা করলে । উপাসনার পর আমি কেশবকে বল্লুম, দেখ ভগবানই একরূপে ভাগবত হয়েছেন, তাই বেদ, পুরাণ, তন্ত্র এ সব পূজা করতে হয়। আবার একরূপে তিনি ভক্ত হয়েছেন, ভক্তের হৃদয় তার বৈঠকখানা; বৈঠকখানায় গেলে যেমন বাবুকে অনায়াসে দেখা যায়। তাই ভক্তের পূজাতে ভগবানের পূজা হয় ।

“কেশব আর তার দলের লোকগুলি এই কথাগুলি খুব মন দিয়ে শুনলে । পূর্ণিমা, চারিদিকে চাদের আলোক। গঙ্গাকূলে, সিড়ির চাতালে সকলে বসে আছে । আমি বললাম সকলে বল, ‘ভাগবত ভক্ত ভগবান ।” “তখন সকলে এক সুরে বললে "ভাগবত ভক্ত ভগবান । আবার বললাম, বল, ‘ব্রহ্মই শক্তি, শক্তিই ব্ৰহ্ম’ । তারা আবার এক স্বরে বললে ‘ব্রহ্মই শক্তি, শক্তিই ব্ৰহ্ম ।’ তাদের বললাম, যাকে তোমরা ব্ৰহ্ম বল, তাকেই আমি মা বলি ; মা বড় মধুর নাম ” “যখন আবার তাদের বললাম, আবার বল “গুরুকৃষ্ণ বৈষ্ণব । তখন কেশব বললে, মহাশয় অত দূর নয়। তাহলে সকলে আমাদের গোড়া বৈষ্ণব মনে করবে।” - “কেশবকে মাঝে মাঝে বলতাম, তোমরা যাকে ব্রহ্ম বল, তাকেই আমি শক্তি, আদ্যাশক্তি বলি। যখন বাক্য মনের অতীত, নিগুণ নিক্রিয়, তখন বেদে তাকে ব্রহ্ম বলেছে। যখন দেখি যে তিনি স্বষ্টি-স্থিতি প্রলয় করছেন, তখন তাকে শক্তি, আদ্যাশক্তি এই সব বলি।” “কেশবকে বললাম, সংসারে হওয়া বড় কঠিন—যে ঘরে আচার আর তেঁতুল আর জলের জালা, সেই ঘরেই বিকারী রোগী কেমন করে ভাল হয় ; তাই মাঝে মাঝে সাধন ভজন করবার জন্ত নির্জনে চলে যেতে হয়। গুড়ি মোটা হলে হাতী বেঁধে দেওয়া যায়, কিন্তু চারা গাছ ছাগল গরুতে খেয়ে ফেলে। তাই কেশব লেকচারে বলে, তোমরা পাকা হয়ে সংসারে থাক।”