পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


obby o শ্ৰীশ্ৰীরামকৃষ্ণ কথামৃত—৫ম ভাগ [ ১৮৮৫, ফেব্রুয়ারী ২২ খেও । তারপর রোগ ভাল হল । তা মরিচ দিয়ে ঔষধ খেয়ে ভাল হল, নী আপনি ভাল হল, কে বলবে ? “লক্ষ্মণ লবকুশকে বল্লেন, তোরা ছেলেমানুষ, তোরা রামচন্দ্রকে জানিস না । র্তার পাদস্পর্শে অহল্যা পাষাণী মানবী হয়ে গেল। লবকুশ বল্লে, ঠাকুর সব জানি, সব শুনেছি ; পাষাণী যে মানব হল সে মুনিবাক্য ছিল ; গৌতমমুনি বলেছিলেন, যে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র ঐ আশ্রমের কাছ দিয়ে যাবেন ; তার পাদস্পর্শে তুমি আবার মানবী হবে। তা এখন রামের গুণে না মুনিবাক্যে, কে বলবে বল ।” শ্রদ্ধালুরতুর্জিতভক্তিলক্ষণে যস্তস্ত দৃশ্ৰোহহমহর্নিশংহৃদি ॥ অধ্যাত্মরামায়ণ, রামগীতা । “সবই ঈশ্বর ইচ্ছায় হচ্ছে । এখানে যদি তোমার চৈতন্ত হয়, আমাকে জানবে হেতুমাত্র। চাদামামা সকলের মামা। ঈশ্বর ইচ্ছায় সব হচ্ছে। গিরীশ ( সহাস্তে )—ঈশ্বরের ইচ্ছায় তো ? আমিও ত তাই বলছি (সকলের হাস্তা ) । , - শ্রীরামকৃষ্ণ ( গিরীশের প্রতি )—সরল হলে শীঘ্র ঈশ্বর লাভ হয়। কয়জনের জ্ঞান হয় না, ১ম—যার বাকী মন, সরল নয় ; ২য়,—যার গুচিবাই ; ৩য়,—যারা সংশয়াত্মা । ঠাকুর নিত্যগোপালের ভাবাবস্থার প্রশংসা করিতেছেন। এখনও তিন চার জন ভক্ত ঐ দক্ষিণ পূর্ব লম্বা বারাওয়ে ঠাকুরের কাছে দাড়াইয়া আছেন ও সমস্ত শুনিতেছেন। পরমহংসের অবস্থা ঠাকুর বর্ণনা করিতেছেন। বলিতেছেন, পরমহংসের সর্বদা এই বোধ—ঈশ্বরই সত্য আর সব অনিত্য । হাসেরই শক্তি আছে দুধকে জল থেকে তফাৎ করা। দুধে জলে যদি মিশিয়ে থাকে, তাদের জিহাতে এক রকম টক্‌ রস আছে সেই রসের দ্বারা দুধ আলাদা জল আলাদা হয়ে যায়। পরমহংসের মুখেও সেই টক রস আছে, প্রেমাভক্তি। প্রেমাভক্তি থাকলেই নিত্য অনিত্য বিবেক হয়। ঈশ্বরের অনুভূতি হয়, ঈশ্বর দর্শন হয়।