পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিরীশ-মন্দিরে জ্ঞান-ভক্তি-সমন্বয়-কথাপ্রসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ গিরীশ ঘোষের বম্বপাড়ার বাটীতে ভক্তসঙ্গে বসিয়া ঈশ্বরীয় কথা কহিতেছেন। বেলা ৩টা বাজিয়াছে। মাষ্টার আসিয়া ভূমিষ্ট হইয়। প্রণাম করিলেন। আজ বুধবার ১২ই ফাঙ্কন, শুক্লা একাদশী—২৫শে ফেব্রুয়ারী ১৮৮৫ খৃঃ অঃ। গত রবিবার দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্ম-মহোৎসব হইয়া গিয়াছে। আজ ঠাকুর গিরীশের বাড়ী হইয়া ষ্টার থিয়েটারে বৃষকেতুর অভিনয় দর্শন করিতে যাইবেন। ঠাকুর কিয়ৎক্ষণ পূর্বেই আসিয়াছেন। কাজ সারিয়া আসিতে মাষ্টারের কিঞ্চিৎ বিলম্ব হইয়াছে। তিনি আসিয়াই দেখিলেন, ঠাকুর উৎসাহের সহিত ব্ৰহ্মজ্ঞান ও ভক্তিতত্ত্বের সমন্বয় কথা কহিতেছেন। ত্রীরামকৃষ্ণ (গিরীশ প্রভৃতি ভক্তদের প্রতি )—জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি, জীবের এই তিন অবস্থা। “যারা জ্ঞান বিচার করে তারা তিম অবস্থাই উড়িয়ে দেয় । তার বলে যে ব্ৰহ্ম তিন অবস্থারই পার ; স্থল, সুহ্ম, কারণ—তিনি দেহের পার ; সত্ত্ব, রজঃ, তম, তিন গুণের পার ; সমস্তই মায়া, যেমন আয়নাতে প্রতিবিম্ব পড়েছে ; প্রতিবিম্ব কিছু বস্তু নয় ; ব্রহ্মই বস্তু আর সব অবস্তু।* “ব্রহ্মজ্ঞানীরা আরও বলে, দেহাত্ম-বুদ্ধি থাকলেই দুটো দেখায়। প্রতিবিম্বটাও সত্য বলে বোধ হয়। ঐ বুদ্ধি চলে গেলে, সোহহং ‘আমিই সেই ব্ৰহ্ম’ এই অনুভূতি হয়।” একজন ভক্ত—তা হলে কি আমরা সব বিচার করবো ? মাণ্ডুক্য-উপনিষৎ