পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীযুক্ত বঙ্কিম ও ভক্তিযোগ—ঈশ্বরপ্রেম २७ é কালপাশ কাটে । ডুব দিতে হবে, তা না হ’লে রত্ন পাওয়া যাবে না। একটা গান শুন— to ডুব ডুব, ডুব রূপ-সাগরে আমার মন । তলাতল পাতাল খুজলে পাবি রে প্রেমরত্নধন । খুঁজ খুঁজ খুঁজ খুজলে পাবি হৃদয়মাঝে বৃন্দাবন। দীপ দীপ, দীপ জ্ঞানের বাতি জলবে হৃদে অন্ধক্ষণ । ড্যাং ড্যাং ড্যাং ড্যাঙ্গায় ডিঙ্গে চালায় আবার সে কোন জন । কুবীর বলে শোন শোন শোন, ভাব গুরুর শ্রীচরণ ॥ ঠাকুর তাহার সেই দেবদুল্লভ মধুর কণ্ঠে এই গানটী গাইলেন। সভাশুদ্ধ লোক আকৃষ্ট হইয়া এক মনে এই গান শুনিতে লাগিলেন। গান সমাপ্ত হইলে আবার কথা আরম্ভ হইল । স্ত্রীরামকৃষ্ণ ( বঙ্কিমের প্রতি )-কেউ কেউ ডুব দিতে চায় না। তারা বলে, ঈশ্বর ঈশ্বর করে বাড়াবাড়ি ক’রে শেষকালে কি পাগল হয়ে যাবো ? যারা ঈশ্বরের প্রেমে মত্ত, তাদের তারা বলে, বেহেড হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই সব লোকে এটি বোঝে ন যে, সচ্চিদানন্দ অমৃতের সাগর। “আমি নরেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মনে কর যে, এক খুলি রস আছে, আর তুই মাছি হয়েছিস ; তুই কোনখানে ব’সে রস খাবি ? নরেন্দ্র বল্পে, আড়ায় ( কিনারায় ) ব’সে মুখ বাড়িয়ে খাব। আমি বললুম, কেন ? মাঝখানে গিয়ে ডুবে খেলে কি দোষ ? নরেন্দ্র বল্পে, তা হ’লে যে রসে জড়িয়ে ম’রে যাব। তখন আমি বললুম, বাবা সচ্চিদানন্দ-রস তা নয়, এ রস অমৃতরস, এতে ডুবলে মাছুষ মরে না, অমর হয়।” “তাই বলছি ডুব দাও। কিছু ভয় নই, ডুবলে অমর হয়। এইবার বঙ্কিম ঠাকুরকে প্রণাম করিলেন–বিদায় গ্রহণ করিবেন। বঙ্কিম—মহাশয়, যত আহাম্মক আমাকে ঠাওরেছেন তত নয়। একটি প্রার্থনা আছে—অনুগ্রহ ক’রে কুটিরে একবার পায়ের ধূলা— ঐরামকৃষ্ণ—তা বেশ তো, ঈশ্বরের ইচ্ছা। বঙ্কিম—সেখানেও দেখবেন, ভক্ত আছে।