পাতা:শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত পঞ্চম ভাগ.djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●领 ঐশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত—৫ম ভাগ [ ১৮৮৩, ২৭শে মে পারে, আর যাদের খেতে একটু বেলা হ’লে অসুখ হয়, তাদের কাছে কেবল কাল্লার কথা, দুঃখের কথা, ভাল নয়। “বৈষ্ণবচরণ বলতে, কেবল পাপ পাপ এ সব কি ? আনন্দ করে।” ঠাকুর আহারান্তে একটু বিশ্রাম করিতে না করিতে মনোহরর্সাই গোস্বামী আসিয়া উপস্থিত । [ ঐরাধার ভাবে মহাভাবময় শ্রীরামকৃষ্ণ—ঠাকুর কি গৌরাঙ্গ ] গোস্বামী পূৰ্ব্বরাগ কীৰ্ত্তন গান করিতেছেন। একটু শুনিতে শুনিতেই ঠাকুর রাধার ভাবে ভাবাবিষ্ট । প্রথমেই গৌরচঞ্জিকা কীৰ্ত্তন। ‘করতলে হাত—চিস্তিত—গোরা—আজ কেন চিস্তিত ?—বুঝি রাধার ভাবে হয়েছে ভাবিত’ । গোস্বামী আবার গান গাইতেছেন— ঘরের বাহিরে, দণ্ডে শতবার তিলে তিলে আসে যায় কিবা মন উচাটন, নিঃশ্বাস সঘন,কদম্ব কাননে চায় । ( রাই এমন কেন বা হ’লো গো ! ) গানের এই লাইনটি শুনিয়া ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মহাভাবের অবস্থা হইয়াছে। গায়ের জামা ছিড়িয়া ফেলিয়া দিলেন। কাৰ্ত্তনীয়া যখন গাইতেছেন, শীতল তছু অঙ্গ। তছু পরশে, অমনি অবশ অঙ্গ । মহাভাবে ঠাকুরের কম্প হইতেছে! (কেদার দৃষ্টে) ঠাকুর কীৰ্ত্তনের সুরে বলিতেছেন, “প্রাণনাথ হৃদয়বল্লভ, তোরা কৃষ্ণ এনে দে ; মুহৃদের তো কাজ বটে ; হয় এনে দে, না আমায় নিয়ে । চলুঃ তোদের চিরদাসী হব।” গোস্বামী কীৰ্ত্তনীয়া ঠাকুরের মহাভাবের অবস্থা দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছেন। তিনি করজোড়ে বলিতেছেন, “আমার বিষয়বুদ্ধি ঘুচিয়ে দিন।”