পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মধ্য খণ্ড । S84 বলে মাধ। অসস্তব কথা বল্লি কেনে । বৃষ্টি হইবেন তুই জানিলি কেমনে ॥ অদ্য রাত্ৰে হ’বে বৃষ্টি সন্ধ্যার পরেতে । চারি দণ্ড বৃষ্টি হ’বে পারিবি ঠেকা'তে ॥ রথের নীচায় পড়ে চাহিলি মরিতে। গুরু পাটে আসিলি কি জাহিরী জানাতে ॥ তোর দেহে হেন শক্তি হইয়াছে কবে । অসময় মৃত্যু তোরে কোন যমে নিবে ॥ কমল চরণে দিলি রজত পাদুক। যে পদ কমলে সদা কমল৷ সেবিকা ॥ এনেদে কমল ফুল যারে পদ্ম বনে । চন্দন মাখিয়া দিব যুগল চরণে । অমনি মাধব যাত্র করে ফুল জন্যে। ২ গোলোক বলেছে মাধা যা’স কোন খানে ॥ হারে মাধ। নাহি মেধাশক্তি হৃদিপদ্মে । বসে থেকে মন পাঠা পদ্ম বন মধ্যে ॥ মাধব নয়ন মুদি বসিল তখন। গোলোক মানসে পূজে ঐগুরু চরণ ॥ মনে মনে মাধবেরে বনে পাঠাইল । বন হ’তে পদ্ম পুষ্প মাধব অনিল ॥ . মনে মনে করিলেন চন্দন ঘর্ষণ । চন্দনে মাখিয়া পদ্ম পূজে শ্ৰীচরণ। বিস্মিত মাধব কহে পাগলের পাশ । কোথা হ’তে আসে দাদা চন্দনেয় বাস ॥ গোলোক কহিছে ভাই দেহ মন দিয়া । কে যেন দিতেছে ফুল চন্দনে মাখিয়া ॥ আরোপে মাধব করে চরণ নেহর । চন্দনে চর্চিত পদ্ম দেখে পদোপর ॥ তাহা দেখি মাধব উঠিল শিহরিয়া । গোলোকের পদ ধরি পড়িল র্কাদিয়া ॥ মাধবের হস্ত ধরি গোলোক উঠায় । বলে ভাই শুন কিছু বলি যে তোমায়। তোর সঙ্গে মোর হ’ল ভজনের আড়ি । ধান্ত আর দিসনারে ঠাকুরের বাড়ী ॥ এতদিন গুরুপাটে কেন ধান্ত দিলি। তুই কি আমার মাকে বারাণী পাইলি । যদি দিতে ইচ্ছা থাকে আনিস বানিয়ে । জননীর ঠাই দিস তণ্ডুল আনিয়ে। পুনৰ্ব্বার গুরুপাটে ধান যদি দিস। ধান বানিবারে তোর নারীকে আনিস্ ॥ [ ১৯ ] ফিরে যদি গুরুপাটে ধান যাবি দিয়ে । আমার নিকটে মরিবিরে মা’র খেয়ে ॥ শুনিয়। মাধব পাগলের পদ ধরি । দাদা দাদা বলে কেঁদে যায় গড়াগড়ি ॥ পাগল কহিছে মাধ। আtয় মোর সাথে । রথের মেলায় যাই সন্ধ্যার অগ্ৰেতে ॥ ডাক দিয়া ভ্রাতুপুত্র মহানন্দে বলে । দোহে বৈস পুকুরের দক্ষিণের কুলে। দক্ষিণের পাড়ীর দক্ষিণ পাশ্বে নিয়া । দুজনে রাখিল সেই খানে বসাইয়া ॥ একখান ভাঙ্গা চাচ দিয়া দুজনায়। রাখিলেন নিয়া এক গাছের তলায় ॥ অল্পক্ষণ পরে বৃষ্টি হ’বে দণ্ড চারি। তখনে এ টাচ দিও মস্তক উপরি ॥ বৃষ্টি হ’বে উত্তরিয়া বাতাস হইলে । বাত বৃষ্টি লাগিবে না এখানে থাকিলে ॥ বৃষ্টি হ’য়ে গেলে ভাল সূবিধা হইলে । তথমে দুজনে যেও বাড়ী পরে চলে ॥ মাধবে লইয়। তবে গোলোক গোস্বামী । বাড়ীর উপরে গিয়া করে পাগলামি ॥ নিজে নানা কাৰ্য্য করে আরো লোক ধরে । -সকলে বলিয়া দেয় কাৰ্য্য করিবারে ॥ ব’লে দিলে কাৰ্য্য করে কেহ আনে কণষ্ঠ । জল পাতা আনে যারা ভক্ত শ্রেষ্ঠ শ্রেষ্ঠ ॥ পাক করিবারে নাহি করে আয়োজন । চুলা জালাইতে সবে করিল বারণ। ঢাকিয়া রাখিল কাষ্ঠ সামগ্রী যতেক। সব সাবধান করে করি এক এক ॥ সভা করি বসিলেন কীৰ্ত্তন করিতে। উন্মত্ত পাগল যেন লাগিল নাচিতে ॥ জয় হরি বল রে গৌর হরি বল। হুঙ্কার করিয়া নাচে কাপে ভূমণ্ডল ॥ লম্ফ দিয়া পাচ সাত হাত উৰ্দ্ধ হয়। হেন জ্ঞান হয় যেন শূন্তে উড়ে যায়। এক এক বার কহে কেহ হরিচাদ । এক এক বার কহে সত্য গুরুচাদ ॥ গুরু ঠাকুরকে বলে পাছে ভুলে যাও । জগন্নাথ বলে ওঢ়াকাদি মুখ চাও ৷ এক এক বার যায় অন্তঃপুর মাঝে । এক এক বার অাদে বাহিরের কাজে ॥