পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেইমত মাতাইব সকল জগৎ।
চৈতন্যের মত ছাড়ি ডুবিবেক সৎ।।
সংঘট ঘটাব মঙ্গল আর শনিবারে।
বার বার বার বানাইব বারে বারে।।
বিল্ববৃক্ষ তুলসী মাহাত্ম্য লোপাইব।
হিজলিকা শড়া জিকা বার সাজাইব।।
চৈতন্যের মত বারে করিব আশক্ত।
মজাইব চৈতন্যের আত্মসুখী ভক্ত।।
মাধু্র্য্যের ভক্তে মোর নাই অধিকার।
ঐশ্বর্য্য ভক্তির ভক্তে দিব ছার খার।।
রোগাভক্তি করাইয়া মাতাইব সব।
এদিকেতে করিব রোগের প্রাদুর্ভাব।।
মত প্রচারিয়া মোর মতে আকর্ষিয়া।
তোমার দক্ষিণ দ্বার দিব পোষাইয়া।।
হ্রদে দহে তড়াগে প্রয়াগ প্রচারিব।
কূপে গঙ্গা প্রচারিয়া তীর্থ বানাইব।।
কূলজার কূলাচার ধর্ম্ম নষ্টাইব।
বিধিভক্ত নৈষ্ঠিকের ধর্ম্ম ভ্রষ্টাইব।।
প্রচারি পৈশাচী সিদ্ধি সাধুত্ব জানাইব।
ভূতভাবী বর্ত্তমান তাহারে বলা’ব।।
কন্দর্পের দর্পে মোহাইব কতজন।
কিয়ৎক্ষণ মোহাইব মোহান্তের মন।।
কৃষ্ণভক্তি ছাড়ি পৈশাচিক মত ল’বে।
এতে তব অধিকার ক্রমেই বাড়িবে।।
তাহা শুনি যম বলে ধন্য ধন্য কলি।
যম দূত সবে নাচে দুই বাহু তুলি।।
কলি বলে ভক্ত মধ্যে বহুত পাষণ্ড।
বহিরঙ্গ ভক্ত যত সব হ’বে ভণ্ড।।
কূপজলে দেখা’ব আশ্চর্য্য বিভীষিকা।
লোক সংঘটন হবে নাহি লেখাজোখা।।
নদী পার নিব নাবিকের নায় নিয়া।
নাবিক ছাড়িবে কর্ণ অসাধ্য হইয়া।।
গোছাল রুধির ক্লেদ টিপ্পনি তরণী।
মুচির নৌকায় পার হইবে ব্রাহ্মণী।।
হাড়ি মুচি যবন ব্রাহ্মণ আদি করি।
যাতায়াতে ফেলাইব পথ রুদ্ধ করি।।
শ্রাদ্ধোৎসর্গ তণ্ডুল পরশে প্রেম শূন্য।
অজালোম পরশনে ভক্তি হয় চূর্ণ।।
অজারক্ত খাওয়াইব কূপ জলে ধুয়ে।
যাজনিক ব্রাহ্মণের দোকানী বানায়ে।।
তাহার মিষ্টান্ন খাওয়াইব বাজারেতে।
যাতে ভক্তি লোপ হয় তব কল্যাণেতে।।
ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরানে রয়েছে নিশানা।
পাপপূণ্য বসুন্ধরা শস্য জন্মিবেনা।।
গাভি হ’বে দুগ্ধহীন ফলহীন বৃক্ষ।
নদনদী খাল বিল ক্রমে হ’বে শুষ্ক।।
মারুতির ক্রোধ ছিল তাহা কোথা যা’বে।
সেই শাপ মনস্তাপ অবশ্য ভুঞ্জিবে।।
মাতৃ পিতৃ ভাতৃ ভাত খাইবে যাচিয়া।
নরকে মজিবে ধর্ম্ম পালিতে নারিয়া।।
রাবনের চেড়ি করে সীতাকে পীড়ন।
তাহা দেখি কূপিলেন পবননন্দন।।
সেইকালে আছাড়িয়া লইত জীবন।
তাহা না করিল শুনি সীতার বারণ।।
জন্মান্তরে তাহারা হইবে রোগযুক্ত।
তাহারা হইবে সব কূপতীর্থ ভক্ত।।
সধবা বিধবা সব ডুবা’ব সে কূপে।
এইদশা হ’বে হনুমান বীর কোপে।।
নৈষ্ঠিক প্রেমিক ভক্ত পদ শিরে ধরি।
গৌরাঙ্গের হাটে গিয়া বলা’ব হরি হরি।।
না মানিব শিব দুর্গা কৃষ্ণপ্রেমে বাম।
হরিনাম না লইবে বলি মরা নাম।।
এরূপ দুষ্কৃতি কর্ম্মে ধর্ম্ম কর্ম্ম ক্ষয়।
বিস্তারি লিখিতে গেলে পুথি বেড়ে যায়।।
এরূপে বৈষ্ণব ধর্ম্মে পড়ে গেল ত্রুটি।
সেহেতু ঘুচাতে বৈষ্ণবের খুঁটিনাটি।।
যুগে যুগে করে প্রভু ভূ-ভার হরণ।
দুষ্কৃতি বিনাশ আর ধর্ম্ম সংস্থাপন।।
ব্যাসের কলম আছে ভাগবতে শ্লোক।
স্বয়ং এর মুখবাক্য প্রতিজ্ঞাপূর্ব্বক।।

শ্লোক
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্‌।
ধর্ম্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।

পয়ার
বৈষ্ণবের কুটিনাটি খণ্ডন কারণ।
সে কারনে অবতার পুন প্রয়োজন।।
দ্বাপরেতে যদুবংশে অনেক হইল।
নিজ বংশধ্বংসবাঞ্ছা কেন বা করিল।।