পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| | i Ꮌ☾ শ্ৰীশ্ৰীহরিলীলামৃত । তথা গিয়া দেখে সবে মোহ হইয়াছে। রাই কঁাদি কহিলেন পাগলের কাছে ॥ পাগল ঘাইয়া শস্তুনাথের ভবন । হরি বলি সবাকার করা’ল চেতন ॥ গঙ্গাচর্ণ মহারাস পাগলের কাজ । রচিল তারকচন্দ্র কবি রসরাজ। পাগলের তালবৃক্ষ ছেদন ॥ পয়ার । কত দিন পর্য্যন্ত সে রাই ভাবে মনে । পাগলের কার্য্য কিছু বুঝিতে পারিনে ॥ অনানুষী কাৰ্য্য সব না বুঝে দেবতা । আমি কোন ছার এর মৰ্ম্ম পাব কোথা। পাগল চাদের দেখি মহিম। অপার। শ্ৰীমন্ত লোকের ভক্তি হইল সবার ॥ রাইচরণের ভক্তি একান্ত অন্তরে । মন হ’ল পাগলেকে অনিবার তরে | রাইচরণের নাই আশার অবধি । নারিকেলবাড়ী গিয়া গেল ওঢ়ার্কাদি ॥ পাগল বসিয়া আছে ঠাকুরের বামে । রাই গিয়া ঠাকুরের শ্রীপদে প্রণামে ৷ ঠাকুর জিজ্ঞাসা করে আ’লি কোথা হ’তে । মনের মানসা তেlর পাগলকে নিতে ॥, রাই বলে আজ্ঞা প্রভো ! অই মনোনীত । বুঝিয় করুণ কাৰ্য্য যে হয় উচিত ॥ ঠাকুর ইঙ্গিত কৈল গোলোকের পানে । গোলোক ইঙ্গিত বুঝি উঠিল তখনে ॥ অমনি চলিল রাইচরণ সঙ্গেতে। ঠাকুর নিকটে রাই নারিল বসিতে ॥ নারিকেলবাড়ী গিয়ে পাগলামী করে । মার পিট করে জোরে ধারে তারে ধ’রে ॥ পদাঘাত মুষ্ট্যাঘাত চপট আঘাত। ' দশ বারে৷ জনে করে ভূমিতে নিপাত। পরে গেল করপাড়া যুধিষ্ঠির বাড়ী। এক লাউ কাটিয়া পুরিল এক হাড়ি ॥ জাল দিয়া হাড়ির উপরে রেখে হাড়ি। উঠানে অনিয়া ভাঙ্গে লাউ পোড়া হাড়ি ॥ °議 গোস্বামী তখন রাগে দৰ্প করি অতি । রাইচরণের পৃষ্ঠে মারে দুই লাথি ॥ দৰ্প করি বলে রাই শীঘ্র যারে বাট । বাড়ী আছে তালগাছ শীঘ্র ফেল৷ কাটী ৷ তাহা শুনি রাই তবে বাটীতে আসিল । রাত্রি এল তালগাছ কাটিতে নারিল। পাগল যথ তথায় পাগলামী করে। পাটগাতী খেয়া ঘাটে রাত্রি দ্বিপ্রহরে ॥ পাটনীর ঘর খেয়া ঘাটের উপর। বলে ওরে পাটনী আমাকে পার কর । পাটনী কহিছে রাগে তুই কার বেট। এত রাত্রে বল তোরে পার করে কেট। জয় হরি বলরে গৌর হরি বল । দৰ্প করি যখনেতে উঠিল পাগল। পাটনীর হৃৎকম্প হৈল তাহ শুনে । নিত্য পার করি মন্দ বলেছি না চিনে ॥ রাবণ পাটনী নাম হয় যে আমার । পার করি অন্তে যদি মোরে কর পার ॥ প্রভু বলে যাহা দিবি পাবি সেই ধন। হরি তরাইবে তোরে বলিয়ু বচন ॥ এত বলি পাগল চলিল গঙ্গাচর্ণ । রাইচরণের বাড়ী চলে উগ্ৰমনা ৷ বলে রাই মোর বড় ভ্রম হইয়াছে। অামাকে সুস্থির কর এসে মোর কাছে ॥ রাই ডেকে বলে তার রমণীর স্থান । পাগলকে সুস্থ করি তৈল জল আন ॥ । তাহা শুনি ক্রোধেতে পাগল চাদ কয় । , তেলে জলে সুস্থ হওয়া পাগল এ নয় ॥ তালগাছ কাটতে তোমাকে আমি কই । তাহা যদি কেটে ফেল তবে সুস্থ হই ॥ রাই কহে আসিতে যে রাত্ৰি হ’ল মোর। অবগু কাটিব গাছ নিশী হ’লে ভোর ॥ " প্রভাত সময় তালগাছ কেটে ছিল । গাছের ডাগুয়া পাতা বাটিতে রাখিল ॥ বাস্তু ঘর বেড়া সঙ্গে বেড়। হেল৷ দিয়া। ডাগুয়া নীচায় পাতা উপরে রাখিয় ॥ পাগল তাহার পরদিন ফিরি ঘুী । গঙ্গাচর্ণ এল রাইচরণের বাড়ী। রাত্রি যোগে পাগল সে ডাগুয়া পাতায়। আগুণ লাগায়ে দিয়া নাচিয়া বেড়ায়।