পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—-

  • ७8 শ্ৰীশ্ৰীহরিলীলামৃত ।

গোলোকে ডাকিয়া বলে দেবী শান্তিমাঞ্জ । মরিতে চাহিলি এবে শীত গেল কোথা ॥ গোলোক চরণে পড়ি বলেছে ভারতী । জনমে জনমে যেন পদে থাকে, মতি ॥ হরিচাদ লীলাকথা সুধাধিক সুধী । রচিল তারক পুষ্করিণী ঘাট বাধা ॥ শ্ৰীমদেগালোক গোস্বামীর মানবলীলা - সম্বরণ ॥ পয়ার পাগলের পেটে ছিল দুরন্ত বেদন । সময় সময় হ’ত একান্ত যাতন ॥ ফুকুরানিবাসী শ্ৰীঈশ্বর অধিকারী। পাগলের যাওয়া আশা ছিল সেই বাড়ী ৷ চৈত্রমাসে সে বাড়ীতে গোস্বামী আসিয়া । অধিকারী মহাশয় সঙ্গেতে মিলিয় ॥ সেইদিন অধিকারী বাটীতে ছিলেন। উভয় মিলিয়। নদীকূলে আসিলেন । মধুমতী নদীকূলে ঘাট একখান। পাগল করিত এসে সেই ঘাটে স্বান ॥ অধিকারী মহাশয় মাতিলেন মতে । বড় আৰ্ত্ত হ’ল তার পাগলের সাথে । হরিচাদ প্ৰভু মোর ঈশ্বরাবতংশ। ঈশ্বরাধিকারী প্রভু পিতৃগুরুবংশ ॥ প্রভু হরিচাদ হন বাস্থা কল্প তরু। অধিকারী মহাশয় প্রভু-পিতৃগুরু ॥ মতুয়া হইয়া গেল বলি হরিবোল। নিজ পরিবার সহ মাতিল সকল ॥ পূৰ্ব্বাপর বংশ তার সকল মহৎ । ওঢ়াকাদি মুখ হ’য়ে করে দওবৎ ॥ তাহার রমণী পাগলেরে বড় মানে । ভক্তিযুক্ত চিত্ত সদা প্রাণ তুল্য জানে ॥ ঈশ্বর চন্দ্রের পুত্র শ্রীরাইচরণ। জ্যেষ্ঠ কন্যা দেবরাণী শু্যামলাবরণ ॥ পুত্রকষ্ঠ পরিবার সবে পুলকিত । হরি হরি বলিতে শরীর লোমাঞ্চিত ৷ দিবানিশি প্রেমোন্মত্ত বলে হরিবোল । পাগলের জন্তে যেন হইল পাগল ॥ পাগলে দেখিলে গললীকৃতবাসে । হরি বলে নাচে গায় পরম হরিষে ॥ অধিকারী ঠাকুরাণীর কোলেতে বসিয়। মাই খায় পাগল ডাকেন ম৷ বলিয়া ॥ একদিন ঠাকুরাণী সঙ্গেতে পাগল । , নদীকূলে ঘাটে বসে বলে হরিবোল। ' পাগল বলেছে মাগে। হেন মনে লয় ॥ এই ঘাটে বসে যেন হ’য়ে যাই লয় ॥ অীর দিন অধিকাবী সঙ্গেতে আসিল । নদীকূলে সেই ঘাটে পাগল বসিল ॥ পাগল বলেছে হ’ব এই ঘাটে লয় । মনে ভাবি গঙ্গাদেবী লয় কিনা লয় ॥ বলা কহা করি অধিকারীর সঙ্গেতে । বলে আর ইচ্ছা নাই এদেশে থাকিতে ॥ সময় সময় মোর উঠে যে বেদন।। অসহ হইয়। উটে বেদন যাতন ॥ বেদনায় এ শরীরে নাহি সহে টান । মনে বলে এইবার ত্যজিব পরাণ ॥ এ সব বীরতা তথা বলা কহা করি। পরদিন পাগল চলিল নিজবাড়ী ॥ বাড়ী গিয়া জনে জনে বলিল সবারে । পশ্চিমে যাইব আমি ভেবেছি অন্তরে। নবগঙ্গা নদী অামি বড় ভালবাসী । এইবার যা’ব ফিরে আসি কিনা আসি ৷ মধুমতী পূৰ্ব্বাপরি প্রতি ঘরে ঘরে । ভালবাসা যত ছিল বলিল সবারে ॥ সাতই বৈশাখ দিন ফুকুর আসিয়া । অধিকারী ঠাকুরেকে বাড়ী ন দেখিয়া ॥ রাই দেবরাণী আর মাত ঠাকুরাণী । সবাকারে পাগল বলিল মিষ্টবাণী ॥ মনে মনে করিয়া ছিলাম এই ধাৰ্য্য। এই ঘাটে আমি করিতাম এক কাৰ্য্য ॥ তাহা ন হইল অধিকারী বাড়ী নাই ॥ তোমাদের কষ্ট হবে পশ্চিমেতে যাই ॥ । সকলে লইয়৷ নিশী বঞ্চিলেন প্রেমে। " নিশী ভোর করিল মাতিয়া হরিনামে ॥ তারাইল কবিগান করিল তারক। সেই স্থানে উপনীত গোস্বামী গোলোক । মেলা মিলিয়াছে তারাইলের বাজারে । সদলে তারক এল গান গাইবারে ॥ একপাল হইয়াছে সাতই বৈশাখে । আর পালা হইবেক নয়ই তারিখে ॥ "