পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* ‘’ ن3b-b د۔ { শ্ৰীশ্ৰীহরিলীলামৃত ।

সাদরে আসনে হীরামনে বসাইলে । শ্ৰীচরণ পাথলিল দু’নয়ন জলে ॥ মুক্তকেশী হয়ে ফেলারামের রমণী । কেশদ্বারা পাদপদ্ম মুছলেন তিনি। গোস্বামীকে তৈল মাখে আট দশ জনে । স্বান করাইল পুকুরের জল এনে ॥ বসাইল ঘরে এনে সেবাদির কার্য্যে। পায়স পিষ্টক আনে ফেলারাম ভাৰ্য্যে। সম্মুখে অনিয়া থালা ভাজ। বড় ল’য়ে । গোস্বামীর মুখে দিল স্বহস্তে তুলিয়ে। দশনে চিবা’য়ে মুখে রাখে হীরামন । বিস্তার নাহিক করে দুপাট দশন ॥ বড় ধরি পুন দিতে ছিল বদনেতে । অমনি চপটাঘাত করিল মুখেতে ॥ ফেলারাম বলেছে সৌভাগ্য বড় মোর। অমনি মারিল মুখে দ্বিতীয় চাপড় ॥ ধাইয়৷ চলিল প্রভু পুকুরের পাড়ে। মৃত্যুঞ্জয় চলিলেন গোস্বামীকে ধ’রে ॥ হীরামন ধরে শেষে মৃত্যুঞ্জয় কেশে । কপালেতে দুই মুষ্ট্যাঘাত মারে রোষে ॥ চক্ষের নীচায় নাশিকার দুই পাশ্বে। দুই ভুষ। মারি ইট ধরিলেন শেষে । ঠেকাইতে হীরামুনে হাত তুলিলেন । মৃত্যুঞ্জয়ে ছাড়িয়া গোস্বামী চলিলেন । চণ্ডী মল্লিকের ঘরে করিল শয়ন। গোসাই গোসাই বলি চলিল মদন ॥ চৌকির খামায় লগ্ন গোস্বামীর পাও । পদ ধরি বলে প্রভু মোরে পদ দেও৷ ” গোস্বামীর পদে মাথা যখনে লওয়ায় । অমনি মাৱিল লাথি তাহার মাথায় ॥ বাম পাশ্বে খাম্বা ঠেকে যেন ছেচা হ’ল । গোস্বামীর লাথি হেতু জীবন রহিল ৷ উঠিয়া চলিল প্রভু দক্ষিণাভিমুখে । কালীনগরের দিকে চলিলেন রুখে ॥ শ্ৰীগৌরচাদের পুত্র ঐউমাচরণ। বোরা জমি পরিষ্কার করে সেই জন ॥ আইল উপরে বহু কাদা তুলিয়াছে। সে আইল পরদিয়া গোসাঁই চলিছে ৷ আসিয়৷ উমাচরণ করে দণ্ডবৎ ৷ অমনি গোসাই শিরে করে পদাঘাত ॥ মস্তক পশিল গিয়া কাদার ভিতরে । মৃত্যুঞ্জয় গৃহে প্রভু যান ক্রোধভরে ॥ গোসাই বসিল গিয়৷ রন্ধন শালায় । ঘরের নিকটে ভয় কেহ নাহি যায় ॥ ক্ষণে ক্ষণে মৃত্যুঞ্জয় তারকে পাঠায়। গৃহে বসি ঝোকে মাত্র দেখিবারে পায় ॥ হেন মতে রাত্রি গেল গোস্বামী উঠিল। উত্তরের গৃহে এসে সকালে বসিল ॥ নিশীতে স্বপনে দেখেছেন মৃত্যুঞ্জয়। তোমাকে রাখিতে নারী গোস্বামীকে কয় ॥ তোমার চরণে যেন থাকয় ভকতি। তোমাকে রাখিতে নাই আমার শকতি ॥ স্বপ্ন শুনি হীরামন নামাইল পদ । চলিলেন পূৰ্ব্বমুখে বলি হরিচাদ ॥ নদীর কিনারে গ্রাম কলাবাড়ী আদি- – প্রেমাকুল কুলে বসি ঝোকে নিরবধি। উত্তার নয়ন হ’য়ে বলিয়৷ তথায় । পুন আসিলেন মৃত্যুঞ্জয়ের আলয়৷ গোসাই বলেন কল্য না হ’ল রন্ধন । রন্ধন করুক বধূ করিব ভোজন ॥ ছিলাম রসই ঘরে না হইল রণধ। সুস্থির হয়েছি অদ্য খেতে দাও দাদ। তাহা শুনি কাশীশ্বরী করল রন্ধন । গোসাই সুস্থির হয়ে করিল ভোজন ॥ পুনৰ্ব্বার হীরামন যাত্রা করিলেন। তারক আসিয়া পদে প্রণাম করেন ॥ ভূমিষ্ঠ হইয়৷ পদে করে প্রণিপাত। গোসাই করিল পৃষ্ঠদেশে পদাঘাত ॥ _, শব্দ হ’ল বিপরীত ল’ড়ে উঠে ঘর । পদ পড়ে পুষ্প সম পৃষ্ঠের উপর ॥ বিপরীত শব্দ শুনি এল মৃত্যুঞ্জয়। ক্রোধিত হইয়া এসে হীরামনে কয় ॥ তারকে মারিলে পেয়ে কিবা অপরাধ। সবাকার পিতা হয় এক হরিচাদ ॥ গললগ্নি কৃতবাসে কহিছে তারক । আমার অন্তরে বড় হ'য়েছে পুলক ৷ এক লাথি দিয়াছেন আর লাথি দিলে। পাইতাম শ্ৰীপদ তাহতে বাদী হ’লে ৷ গোস্বামীর প্রতি কেন চাহ কোপ দৃষ্ঠে । পদ্ম পুপ সম বাজিয়াছে মম পৃষ্ঠে ।