পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এ হেন সময় প্রভুর মনে হ’ল আশ ।
অন্নপূর্ণা গর্ভ সিন্ধু ইন্দু পরকাশ ।।
নানারূপ বিভীষিকা দেখে অন্নপূর্ণা ।
শচীমাতা নিদ্রাযুক্তা নহে অচৈতন্যা ।।
জাগরিতা যেন কিছু নিদ্রার আবেশ ।
দেখে যেন জয়ধ্বনি হয় সর্ব্ব দেশ ।।
যশোমন্ত বলে প্রিয়া শুনহ বচন ।
যে রূপ আমার মনে জাগে সর্ব্বক্ষণ ।।
নবীন মেঘের বর্ণ বনমালা গলে ।
ভৃগুপদ চিহ্ন দেখা যায় বক্ষঃস্থলে ।।
পিতাম্বর ধর কোকনদ পদাম্বুজে ।
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম শোভে চতুর্ভুজে ।।
এই রূপ আভা মম হৃদয় পশিয়া ।
সে যে তব কোলে বৈসে দ্বিভুজ হইয়া ।।
ঠাকুরাণী বল নাথ নিশার স্বপন ।
নিশাকালে প্রকাশ না করে বুধজন ।।
কৃষ্ণময় চিত্ত তব কৃষ্ণ প্রতি আর্ত্তি ।
শয়নে স্বপনে দেখ ঈশ্বর শ্রীমূর্ত্তি ।।
ঠাকুর বলেন প্রিয়া নহেত যামিনী ।
উদয় হইল দীপ্তিকর দিনমণি ।।
ঠাকুরাণী বলে এত বাতুল লক্ষণ ।।
কিম্বা দানবের কার্য্য না বুঝি কারণ ।।
ঠাকুর বলেন যদি বাতুল লক্ষণ ।
তবে কেন দেখিলাম মুরলী বদন ।।
ঠাকুরাণী বলে তবে জ্যোতির্ম্ময় রূপ ।
সে রূপ দেখিয়া ভাব দিবার স্বরূপ ।।
শতসূর্য্য সম রশ্মি বায়ুতে মিশিল ।
অন্নপূর্ণা গর্ভে আসি প্রবেশ করিল ।।
এ হেন প্রকারে মাতা হৈল গর্ভাবতী ।
ঈশ্বর ইচ্ছায় হৈল বায়ুগর্ভে স্থিতি ।।
শুভগ্রহ নক্ষত্র শুভ লগ্ন হইল ।
মাহেন্দ্র সুযোগে পুত্র প্রসব করিল ।।
বারশ আঠার সাল শ্রীমহাবারুণী ।
কৃষ্ণপক্ষ ত্রয়োদশী তিথি সে ফাল্গুণী ।।
হরি সাল বলি সাল ভক্তগণে গণে ।
নাহিক বৈদিক ক্রিয়া শ্রীবারুণী বিনে ।।
ধন্য অন্নপূর্ণা হেন পুত্র পেল কোলে ।
দ্বাপরে যশোদা যিনি ছিলেন গোকুলে ।।
দ্বাপরে ছিলেন নন্দ যশোদার কান্ত ।
যশোমতি কান্ত এবে হ’ল যশোমন্ত ।।
ধরা দ্রোণ দুইজন তস্য পূর্ব্বে ছিল ।
নন্দ যশোমতি তেই দ্বাপরে হইল ।।
কলিকালে জগন্নাথ মিশ্র শচীরাণী ।
এবে যশোমন্ত অন্নপূর্ণা ঠাকুরাণী ।।
ধন্য রামকান্ত সাধু ধন্য এ জগতে ।
প্রভু আসি জনমিল যাহার বরেতে ।।
প্রভুর জনমখন্ড সুধা হ’তে সুধা ।
কহিছে রসনা খেলে খন্ডে ভব ক্ষুধা ।।


রামকান্ত বৈরাগীর পূর্ব্বা‌পর
প্রস্তাব-কথন

রামকান্ত মহাসাধু পরম উদার ।
অন্নপূর্ণা মাতাকে দিলেন পুত্র বর ।।
সন্দিপণি দ্বাপরে ত্রেতায় বিশ্বামিত্র ।
কলিকালে গঙ্গাদাস পন্ডিত সুপাত্র ।।
ভারতী গোঁসাই শক্তি হইয়া মিশ্রিত ।
মুক ডোবা রামকান্ত হৈল উদ্ভাবিত ।।
তাহাতে মিশ্রিত হ’ল বাসুদেব শক্তি ।
স্নেহ ভাবে বাসুদেবে করিতেন ভক্তি ।।
বাসুদেবে সমর্পিয়া আত্ম স্বার্থ-আত্মা ।
ব্রজের মাধুর্য্যভাবে করিত মমতা ।।
সাধুর সঙ্গেতে ছিল বাসুদেব মুর্ত্তি ।
কভু সখ্য ভাব কভু ব্রজভাবে আর্ত্তি ।।
ধুপ দীপ নৈবিদ্যাদি আতপ তন্ডুলে ।
পূজিতেন রম্ভা দুর্ব্বা তুলসীর দলে ।।
নিবেদিয়া করিতেন ভোজন আরতি ।
বাসুদেব খাইতেন দেখিত সুমতি ।।
মূলা থোড় মোচা কাচা রম্ভার ব্যঞ্জন ।
আতপের অন্ন দিত না দিত লবণ ।।
ছোলা ডাল মুগ বুট গোধুম চাপড়ী ।
তৈল হরিদ্রা বিনে ঘৃত পক্ক বড়ি ।।
ভোগ লাগাইয়া সাধু আরতি করিত ।
বাসুদেব খেত তাহা চাক্ষুস দেখিত ।।
একদিন গ্রামবাসী বিপ্র একজন ।
বাসুদেব ভোগ রাগ করিল দর্শন ।।
ক্রোধ করি বলে বিপ্র এ কোন বিচার ।
শূদ্রের কি আছে অন্নভোগ অধিকার ।।
শূদ্র হ’য়ে বাসুদেবে অন্ন দিলি রাধি ।
কোথায় শুনিলি বেটা এমত অবিধি ।।