পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২০
শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত

মোদের থাকিলে ভক্তি,  কেন বাসুদেব মূর্ত্তি ,
ছল করি ডুব মারে জলে ।।
দ্বিজগণ সকাতর,  জাগরণে নিশি ভোর ,
রামকান্তে সংবাদ জানায় ।
স্নান করাবার তরে,  বাসুদেবে লয়ে নীরে ,
হারা’লেম বাসুদেব রায় ।।
রামকান্ত ধীরে ধীরে,  গিয়া পুকুরের তীরে ,
অতঃপর জলে নামিলেন ।
জলমধ্যে দণ্ডাইয়া,  বাসুদেবের লাগিয়া ,
পদ দিয়া তল্লাস করেণ ।।
ব্রাহ্মণেরা বলে রাগী,  দুরাচার রে বৈরাগী ,
পা দিয়া তালাসে বাসুদেবে ।
মুনি ঋষি করে ধ্যান,,   ব্রহ্মা করে ব্রহ্ম জ্ঞান ,
কমলা যাহার পদ সেবে ।।
বাসুদেব কক্ষমধ্যে,   রামকান্ত বামপদে ,
ঠেলে ফেলে পুকুরের পার ।
হাতে ধরি লয়ে কোলে,  বাসুদেবে ডেকে বলে ,
হারে বাসু কি মন তোমার ।।
ব্রাহ্মণের বাড়ী রহিবা,  কিম্বা মম সঙ্গে যা’বা ,
হাস্য মুখে কহত আমায় ।
বাসুদেব হাস্য করে,  দ্বিজগণ সবে হেরে ,
হাসি লুকায় বিদ্যুতের ন্যায় ।।
রামকান্ত কুতুহলে,  দ্বিজগণে ডেকে বলে ,
বাসুদেব আমার দেবলা ।
না রহিবে দ্বিজালয়,  মোর সঙ্গে যেতে চায়,
আমার যে হ’তে চায় চেলা ।।
ব্রাহ্মণেরা ছিল রুষী,  দেবলা মুখেতে হাসি ,
দেখে আর নাহি সরে বাক ।
বলে ওরে রামকান্ত,  তোর ভকতি একান্ত ,
তোর বাসু তুই নিয়া রাখ ।।
বাসুদেব রামকান্ত,  মহিমার নাহি অন্ত ,
লীলামৃত মাধুর্য্যের সার ।
পাগলচন্দ্র আদেশে,  হরিচাঁদ কৃপালেশে ,
কহে কবি রায় সরকার ।।


বাসুদেব ও রামকান্ত বৈরাগীর চরিত্র
কথন ও নৌকা গঠন ও রথ যাত্রা

পয়ার

বাসুদেবে নিতে আ’সে বহু শিষ্যগণ ।
কান্ত বলে না শুনিয়া বলি কি বচন ।।
ইচ্ছাময় বাসু যদি যান ইচ্ছা করি ।
বাসুর হইয়া বাসো[১] যাইবারে পারি ।।
এত বলি বাসুর নিকতে কান্ত গিয়া ।
শিষ্যগণ নিকটেতে বলিত আসিয়া ।।
কাহারে বলিত বাপু যাওয়া হ’বে না ।
আমার পরাণ বাসু কিছু কহিল না ।।
কেহ কেহ আসামাত্র অমনি যাইত ।
কেহ কেহ এলে তারে যাইব কহিত ।।
বাসুদেবে কোলে করি শিষ্য বাড়ী যেত ।
গুণ-গুণ বাসু গুণ সদায় গাইত ।।
বাসুদেব ইচ্ছা করে তরণীতে যেতে ।
কান্তের হইল মন তরণী গঠিতে ।।
চারিজন শিষ্য দিল নিযুক্ত করিয়া ।
বাওয়ালীরা যেতে ছিল বাওয়াল লইয়া ।।
চকে গিয়া দিত বাসুদেবের দোহাই ।
নির্ব্বিঘ্নে বাওয়াল করি এসেছে সবাই ।।
বাসুদেব নৌকা গঠিবেন জানাইল ।
বাওয়ালীরা বড় এক গাছ দিয়া গেল ।।
সেই গ্রামে ভক্ত এক কর্ম্মকার ছিল ।
লাগিল পাতাম প্রেক যত তাহা দিল ।।
তরণী গঠিত হইল জয় জয় ধ্বনি ।
নাম হ’ল বাসুদেবের পান্সী তরণী ।।
নৌকায় চড়িয়া মাত্র যায় দু’ গোঁসাই ।
বাসুদেব রামকান্ত আর কেহ নাই ।।
ছাপ্পর বাঁধিয়া মধ্যে থাকেন বসিয়া ।
রামকান্ত বাসুদেব একত্র হইয়া ।।
পাল তুলে দিত মাত্র দাড়ি মাঝি নাই ।
তরণী চলিত বেগে দেখিত সবাই ।।
বাতাস উজান হ’লে বাঁক ঘুরে গেলে ।
রামকান্ত দাড় বাহে বাসুদেব হা’লে ।।
কতক্ষণ দাড় বেয়ে বলে ওরে বাসো ।
এ সময় আগা নায় একবার এস ।।
এত বলি রামকান্ত পাছা নায় গিয়া ।
হাল ধরে মনো সুখে থাকিত বসিয়া ।।
আগা নায় বাসুদেব দাড়াইয়া আছে ।
দাড় পড়িতেছে নৌকা বেগে চলিতেছে ।।
মাধুর্য্য প্রাচুর্য্য লীলা দেখিত সবায় ।
কেহ কেহ দেখে বাসুদেব দাড় বায় ।।

  1. বাসো অর্থাৎ নৌকা বাহক