পাতা:শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত (উত্তরাংশ) - অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি.pdf/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২২৬ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত তৃতীয় ভাগ-তৃতীয় খণ্ড পরগণা-ভাটেরা বাৎস্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণ কথা ভাটেরার বাৎস্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণ গণের পদবি চক্রবর্তী এবং ব্যবসায় পৌরোহিত্য । এই বংশের আদি পুরুষের নাম শিবানন্দ । শিবানন্দ-বংশের বিবরণ সম্যক পাওয়া যায় না, ১১৬ বাংলার গৃহদাহে তাঁহাদের অনেক কাগজ পত্র ভস্মীভূত হইয়া যায়। রাজা রাম সিংহ নামক এক ব্যক্তি গৃহে অগ্নিদান করিয়াছিল। গৃহদাহে সনদাদি বিনষ্ট হওয়াতে ইহা পুনঃপ্রাপ্তির জন্য দরখাস্থ দেওয়া হইলে, ১১১৭ বাংলার ১৬ই ফারুণ তারিখে রাজ পণ্ডিতি সনন্দ এবং ১১২২ বাংলার ১০ রমজান তারিখে॥২ কেদার ভূমির ব্রহ্মত্রের সনন্দ পুনঃ প্রদত্ত হয়। শিবানন্দ হতে বৰ্ত্তমানে পঞ্চদশ পুরুষ চলিতেছে। শিবানদের বৃদ্ধ প্রপৌত্রের নাম বাণীনাথ শিরোমণি। শিরোমণির বৃদ্ধ প্রপৌত্র রমাপতি বাচস্পতি; ইহার বলভদ্র বাচস্পতি ও রাম নাথ বিশারদ নামে দুই পুত্র ছিলেন। রাম নাথের পুত্রের নাম রতিকান্ত বিদ্যাভূষণ বলভদ্রের পৌত্র গিরিধর চক্রবর্তী। ইনি একজন প্রতিভাশালী ব্যক্তি ছিলেন, প্রতিভা বলে তিনি দ্বারবঙ্গের মহারাজের “দ্বারপণ্ডিত” নিযুক্ত হইয়া ছিলেন। ইহার ভ্রাতা শ্যামা নন্দের পৌত্ৰগণ জীবিত আছেন। চক্রবর্তী বংশের কথা ভাটেরার চক্রবর্তী বংশ তত্রতা পুরকায়স্থ বংশের পুরোহিত। চৌধুরী বংশের পৌরোহিত্য, ভট্টাচাৰ্য্য পদবিশিষ্ট ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক সম্পাদিত হইয়া থাকে। ভট্টাচাৰ্য বংশে এক সময় অনেক পণ্ডিতের উদ্ভব হইয়াছিল। ভাটেরার চৌধুরী বংশীয়গণ একেবারে জোড়ে নৌকাপূজা করেন, অনেক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত তাহাতে উপস্থিত হইয়াছিলেন। তৎকালে ভট্টাচাৰ্য্য বংশীয়া এক বিদূষী বালিকা পণ্ডিত-সভায় উপস্থিত হইয়া শাস্ত্রালোচনা করিয়া যশস্বিনা হইয়াছিলেন । এই বালিকা লিখিতে কি পড়িতে পারিতেন না। তাহার পিতার টোল ছিল, অধ্যাপনা কালে তিনি কাছে থাকিয়া পিতার উক্তি শুনিতেন। তাহার স্মৃতি শক্তি অতি প্রবল ছিল, শুধু স্মৃতির উপর নির্ভর করিয়া সেই শাস্ত্রজ্ঞান জনিয়াছিল । ভাটেরায় গোস্বামী উপাধি বিশিষ্ট আর এক বংশীয় ব্রাহ্মণ আছেন, ইহারা তত্রত্য বহুবংশের কুলগুরু ছিলেন। ভাটেরার গোতম গোত্রীয় ভাটেরার গোতম গোত্রীয় ব্রাহ্মণগণের পাণ্ডিত্য বহুকাল যাবৎ। প্রায় দ্বাদশ পুরুষ পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী কেশবাচার্য হইতে বংশ তালিকা প্রাপ্ত হওয়া যায়। কেশবাচার্য্যের পুত্র দৈবকীনন্দন সিদ্ধান্ত; ইহার প্রপৌত্র রামনাথের কেশব রাম বাচস্পতি ও বিশ্বনাথ নামে দুই পুত্র হয়, তন্মধ্যে কেশবরাম বিদ্বান ও গুণবান ছিলেন বলিয়া মোগল সম্রাট হইতে এক সনন্দে ৫০ দ্ৰোণ ভূমি ব্ৰহ্মত্র প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। বিশ্বনাথের জনাৰ্দ্দন ও পুরুষোত্তম নামে দুইপুত্র হয়, জনাৰ্দ্দনের পুত্র গোবিন্দরাম সরস্বতী ও শিবরাম। ইহাদের উভয়ের বংশ অনেকটা বিস্তৃত । পুরুষোত্তম ও শিবরামের যুক্ত নামে এক সনন্দ আছে, ইহারা নবাব হরকিমূণ দাস মনসুর উল মুলক হইতে ৫. বালি সহস্র বাসী শ্ৰীযুত কালী কুমার ভট্টাচাৰ্য্য এই বিবরণ প্রেরণ করিয়াছেন। বশিষ্টদেব হইতে ইহাদের নামাবলী যথাক্রমেঃ-অনন্ত, রামকৃষ্ণ, হৃদয়ানন্দ, রামশঙ্কর, শ্রীহরি, শ্ৰীকৃষ্ণ, রামভদ্র, রামজীবন, রঘুনন্দন, হরিকান্ত, শুকদেব, রাঘব, মহেশরাম, কামদেব, জগন্নাথ, জয়কৃষ্ণ, রত্নবল্লভ, রাজকৃষ্ণ, অভয়াচরণ, জয়চন্দ্র তর্কভূষণ। এই বিস্তৃত ও প্রাচীন বংশের একটি ধারার ক্রমানুযায়ী নাম এস্থলে লিখিত হইল ।