পাতা:শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত - পূর্বাংশ.pdf/২৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অষ্টম অধ্যায় ইটার পরবর্তী কথা 0 শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত ২৬৯ আহত হইয়া ওসমান স্বীয় শিবিরে নীত হন ও মৃত্যু মুখে পতিত হন। ওসমানের ভ্রাতা আলী ও পুত্র মুম্রেজ শিবির ছাড়িয়া রাত্রেই পলায়ন করেন। অবশেষে মুমরেজ দিল্লীশ্বরকে ৪৯টি হস্তী উপটৌকন দিয়া আত্মসমপণ করেন। (একবাল নামে জাহাঙ্গিরী—৬৪পৃষ্ঠা) শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুবীর মতে এই যুদ্ধ স্থল শ্রীহট্ট জিলায় অবস্থিত। তিনি বলেন, পূৰ্ব্ব বর্ণিত দমদমা অত্রতা লাখাটা নদীব তীরবর্তী করাইয়া হাওয়া বলিয়া বৰ্ত্তমানে খ্যাত। ইহার প্রায় তিন মাইল ব্যবধানে শ্ৰীসূৰ্য্য মৌজায় ওসমানের গড় বিদ্যমান। কেননা তাহার মতে সুজাত পরাজিত ওসমান খাই রাজা সুবিদ নারায়ণের পরাভবকারী। এই কথায় আনুষঙ্গিক প্রমাণ স্বরূপ তিনি “তজকিবা চৌধুবাই” নামক বাঙ্গালা ভাষায় লিখিত কাগজের উল্লেখ করিয়া বলেন যে শাহজাহান বাদশাহের সময় ইটা, রাজপুত্রদের মধ্যে বিভক্ত হইয়া রাজস্বের বন্দোবস্ত হয়। এই কাগজে সন ১০৩৫ তারিখের সহিত রাজপুত্ৰগণের নাম আছে। অতএব সুবিদ নারায়ণকে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমসাময়িক বলাই সঙ্গত। তিনি আরও বলেন যে, আকবরের “ওয়াসিল তোমাব জমা’ হিসাবে ইটার নাম নাই, যদি এই হিসাব প্রস্তুতের পূৰ্ব্বে ইটা বিজিত হইত, তবে অবশ্যই শ্রীহট্টের মহল সংখ্যায় ইটার নাম থাকিত। কিন্তু রঘুনাথ শিরোমণির ভ্রাতা, রাজকন্যার স্বামী নিৰ্দ্ধারিত হইলে এই সকল মতবাদের কিছু মাত্র মূল্য থাকে না, সুতরাং তাহার মতে “সম্ভবতঃ রঘুনাথ নামে রঘুপতির কোন ভ্রাতা ছিলেন না।” এ কথার পোষকার্থে “বেদিক-পুরাবৃত্ত” নামক এক অজানা গ্রন্থের উল্লেখ করা গিয়াছে। বৈদিক পুরাবৃত্তে লিখিত আছে যে, "রঘুনাথ শিরোমণি শাহজলাল বিজিত প্রসিদ্ধ গৌড়গোবিন্দের সভাপদ অষ্টাবিংশ প্রদীপ প্রণেতা মহেশ্বর ন্যায়ালঙ্কারের ভ্রাতা ছিলেন;–রঘুপতির ভ্রাতা নহেন।” শ্রীযুক্ত হরকিঙ্কর দাস ও শ্রীযুক্ত গোপাল চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সকল আপত্তির তীব্র প্রতিবাদ করিয়াছেন। যথার্থ তত্ত্বপ্রচার করাই ইতিহাস লেখকের প্রধান কৰ্ত্তব্য। যখন দুই বিসংবাদী মত উপস্থিত হয়, সত্যের সূক্ষ্ম নিরপেক্ষ আলোকে, সমালোচনা সামজ্জনীর সহায়ে আবৰ্জ্জনা পরিষ্কৃত করিয়া তখন প্রকৃত তত্ত্ব প্রকাশ করতে হয়। আমরা একতর অর্থাৎ শ্রীযুক্ত ঈশান চন্দ্র চৌধুরীর মত উপরে বলিয়াছি, স্বয়ং কোনরূপ সমালোচনায় ভাব গ্রহণ না করিয়া, দ্বিতীয় মতটাও এ স্থলে প্রকাশ করিতেছি । ১৩১৩ বঙ্গাব্দের জ্যেষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ এই তিন মাসের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধের সার সংগ্ৰহ ক্রমে দ্বিতীয় মতটি লিপিবদ্ধ হইতেছে। বলা বাহুল্য যে, এ মতটি পূৰ্ব্ব হইতেই সৰ্ব্বত্র বহুল প্রচলিত। রাজা সুবিদ নারায়ণ যে আকবর বাদশাহের পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী, তাহা অনেকেই বলেন। ১২৯৩ সালে প্রকাশিত “শ্রীহট্ট-দপণ” পুস্তকের ৭২ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে যে, “সম্রাট শের শাহ কর্তৃক লোদী খাঁ ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দে রাজবিদ্রোহী খোয়াজ ওসমান প্রভৃতির দমনের জন্য শ্রীহট্ট প্রেরিত হন। এই খোয়াজ ওসমান তৎপূৰ্ব্বে ইটার সুবিদ নারায়ণের পুত্রগণকে জাতিভ্রংশ করিয়া মোসলমান করেন।” আলী আমজদ খাঁর জীবনী পুস্তিকায় লিখিত আছে যে, “সন ৯০৬ বঙ্গাব্দের শেষ ভাগে এমন রাজ বংশীয় ১৩ ১৫৪৫ খৃষ্টাব্দে শেব শাহের মৃত্যু হয়, ১৫৪৮ খৃষ্টাব্দে শের শাহের পুত্র সলীম শাহ ভারত সম্রাট ছিলেন।