বাড়িতে অতিথি রেখে চন্দমশাইয়ের যেতে মন চাইছিল না, কিন্তু ওদিকের সমস্ত কিছু সামলাবার নির্ভরযোগ্য মানুষ থাকলেও সভাপতি হিসেবে নিজের উপস্থিতির যে প্রয়োজন এই মুহূর্তে। পদ্মনাথ শুধু বললেন রায়বাহাদুর বিপিনচন্দ্র মহাশয়ের সঙ্গে একটিবার একান্ত সাক্ষাৎকার করিয়ে দিতে হবে। তাঁর মন টানছে ওই ব্যক্তিটির জন্য।
শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে বিবিধ পুষ্পপত্র আর রঙিন পতাকায় শোভিত আরডিআই সভাস্থলের আজ নতুন চেহারা। সুসজ্জিত তোরণদ্বারে দুটো মঙ্গলঘট। বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ইতিমধ্যেই আসন গ্রহণ করেছেন সুরমা উপত্যকার কমিশনার মিস্টার রিড, বিশিষ্ট পাদ্রি রেভারেণ্ড মিস্টার রিজ এবং সঙ্গে শিক্ষিকা মিস ইভান্স। অতিথিদের আসন অলঙ্কৃত করে প্রথম সারিতে অন্যান্যদের সঙ্গে রয়েছেন অবন্তীনাথ তর্কসিদ্ধান্ত, কৈলাশচন্দ্র বিদ্যালঙ্কার, করুণাময় তর্কশাস্ত্রী, হরসুন্দর সাংখ্যরত্ন, তারকচন্দ্র কৃতরত্ন, কৈলাশচন্দ্র তর্কনিধি, দয়ালকৃষ্ণ তর্কতীর্থ, চন্দ্রকান্ত বিদ্যাবিনোদ, মহেন্দ্রনাথ কাব্যসাংখ্যতীর্থ। গোটা সুরমা উপত্যকার সমগ্র তারকামণ্ডলি এই সভাগৃহে ঝলমল করে আলোক বিচ্ছুরণ করে চলেছেন। সভাগৃহ আলো করে রয়েছেন রায় হরিচরণ দাস বাহাদুর, রাধানাথ গুপ্ত, সুরেন্দ্রকুমার চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র চৌধুরী, মৌলবি মফিজুর রহমান, মৌলবি শরাফত আলি, অম্বিকাচরণ দেব, মণিচরণ বর্মন, কালীজয় ন্যায়পঞ্চানন, ভুবনমোহন বিদ্যার্ণব।
অধিবেশন সভাপতি মহামহোপাধ্যায় পদ্মনাথ বিদ্যাবিনোদ ভট্টাচার্য তর্কসরস্বতীকে নিয়ে অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি কামিনীকুমার চন্দ, মহেশচন্দ্র দত্ত আর রায়বাহাদুর বিপিনচন্দ্র সভাকক্ষে প্রবেশ করতেই সমস্ত গুঞ্জন স্তব্ধ হয়ে গেল। মঙ্গলাচরণের পর মঞ্চে আহ্বান করা হল আজকের অধিবেশন সভাপতি, অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতিকে। মঞ্চে আহ্বান করা হলে উঠে নিজের আসনে বসলেন সম্পাদক অবন্তীনাথ দত্ত এবং দুই