পাতা:ষোল আনি (জলধর সেন).djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ষোল-আনি
 

গৃহস্থের একমাত্র কন্যা দেখিয়া গোরাচাঁদের পিতা কালাচাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়াই কুৎসিত মেয়েটীকে কালাচাঁদের অঙ্কলক্ষ্মী করিয়া দিয়াছিলেন। দেখিতে কুৎসিত হইলেও কালাচাঁদের স্ত্রী বড় ভাল মেয়ে। স্বামী যে তাহাকে দুইচক্ষে দেখিতে পারিত না, কোন দিন ভাল মুখে একটা কথাও বলিত না, সৰ্ব্বদা দূর দূর করিত, তাহাতেও কিন্তু ব্রাহ্মণ-কন্যাকে কেহ বিচলিত দেখে নাই। ছোটবধু মন্দাকিনী বড় যায়ের মুখের দিকে চাহিয়া, তাঁহার স্নেহ আদরের অধিকারিণী হইয়া স্বামীর অনাদর নির্য্যাতন নীরবে সহ করিতেন। বড়-যা মানদা তাঁহার স্নেহের অঞ্চল দিয়া এই অভাগিনী ছোট যাকে ঢাকিয়া রাখিতেন। দেবর স্বামীর ছয় বৎসরের ছোট হইলেও মানদা কোন দিন তাহার সহিত কথা বলিতেন না। সাধারণতঃ, দেবরের সহিত জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃবধু যে প্রকার ব্যবহার করিয়া থাকে, পরস্পরের মধ্যে যে প্রকার সম্বন্ধ প্রায় সকল গৃহস্থের বাড়ীতেই দেখিতে পাওয়া যায়, মানদা সে রকম ভাবে দেবরের সঙ্গে ব্যবহার করিতেন না। তিনি দেবরকে যে ঘৃণা করিতেন তাহা নহে; কিন্তু কালাচাঁদের ব্যবহার তাহার নিকট ভাল বোধ হইত না। এই কারণে তাহার সহিত ঘনিষ্ঠতা করিতেন না। কালচাঁদ, অনেক সময়ে এ জন্য বিরক্তি প্রকাশ করিত, রাগ করিত, অনেক ঠাট্টা-তামাসাও করিত; কিন্তু মানদা তাহাতে কৰ্ণপাতও করিতেন না। দুই যায়ে সংসারের কাজকৰ্ম্ম করিতেন, একমাত্র কন্যা সুহারের লালন-পালন করিতেন।

কালাচাঁদের একটা গুণ ছিল; সে নানা উপায়ে অর্থ