পাতা:ষোল আনি (জলধর সেন).djvu/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ষোল-আনি
 

সম্পর্ক রাখতে পারবে না—ওকে এক-ঘরে করতে হবে, আর ওর দুটাে কাণ কেটে দিতে হবে; অমনি ছাড়া হবে না।"

আর একটা যুবক বলিলেন “ও কথাই নয়! ওকে আদালতে আসামী করে দিতে হবে। পাঁচ বছর জেল খাটাতে হবে। অমন লোককে সহজে ছেড়ে দেওয়া কিছুতেই হবে না।”

চণ্ডী বাবু বলিলেন “আদালতে গেলে যে কলঙ্কে দেশ ছেয়ে যাবে। ওর না হয় পাঁচ বছর মেয়াদ হবে। কিন্তু তার পর? আমরা দশের কাছে মুখ দেখাব কেমন করে? না, ন, ও সব হবে না। চক্রবর্ত্তী দাদা যা বললেন, তাই কর্ত্তব্য! চেপে যাওয়াই একমাত্র উপায়—আর পথ নেই!”

হরিশ গাঙ্গুলী এক পাশে বসিয়া তামাক খাইতেছিলেন; তিনি পাড়ার মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ। তিনি বলিলেন, “বলি, এমন কি হয়েছে যে, তোমরা একেবারে নবরত্নের সভা বসিয়ে ফেল্‌লে। সবই এখন থিয়েটারী কাও দেখ্‌ছি। কেন রে বাবু, ব্যাপার কি? এ যেন আর বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে কোথাও হয় না,—এই আমাদের গাঁয়েও যেন এমনটা কোন দিন হয় নাই। ছেলে মানুষ, বেটা ছেলে, করেছে না হয় একটা কাজ; তা নিয়ে এত চেঁচামেচি, এত গোলমাল কেন রে বাপু! বাবা রে, মা রে, গেলাম রে! এখন বসাও বৈঠক, কর বিচার। অমন কত যে হয়ে যাচ্ছে; অমনই বা বলি কেন,—ওর থেকেও গুরুতর কত কি হচ্ছে, তা দেখতে পাচ্ছ না, কাণে শুন্‌তে পাচ্ছ না। যত সব ছেলেমানুষী আর কি! এই আশি বৎসর বয়স হলো; আমার অজানা ত কিছুই

 
১৭