পাতা:ষোল আনি (জলধর সেন).djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ষোল-আনি
 

প্রয়োজনাভাব; আমাদের শাস্ত্রের অনুশাসনই প্রযুক্ত। শাস্ত্রের বিধান এই যে, কালাচাঁদ বাবাজিকে শাস্ত্রানুসারে প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইবে, নতুবা তাহাকে পতিত হইতে হইবে। সে প্রায়শ্চিত্ত করিয়া সমাজে গৃহীত হউক; তাহার দ্বিচারিণী ভ্রাতৃবধূকে গৃহত্যাগ করিয়া যথা-ইচ্ছা গমন করিতে হইবে; আমাদের সমাজে তাহার স্থান হইবে না; —যে বিধবার সতীত্ব নষ্ট হইয়াছে তাহার স্থান আমাদের পবিত্র হিন্দুসমাজে নাই। শাস্ত্রের এই সর্ব্বজনবিদিত ব্যবস্থা অনুসারে কার্য্য করা ব্যতীত গত্যন্তর দৃষ্ট হইতেছে না। এ কার্য্য গোপন করিলে চলিবে না; অন্ততঃ কেনারাম ভট্টাচার্য্য জীবিতমানে এমন কার্য্য হইতে পারিবে না।”

রমামুন্দরী একটু পূর্বেই কালাচাঁদের বাড়ী হইতে ফিরিয়া আসিয়াছিলেন।তিনি এই গ্রামেরই মেয়ে; তাহার পর তাঁহার বয়সও পঞ্চাশ পার হইয়া গিয়াছে; সুতরাং চণ্ডী বাবুর বৈঠকখানায় যাঁহারা আলোচনা করিতেছিলেন, তাঁহাদের সন্মুখে উপস্থিত হইবার তাঁহার বাধা বা লজ্জার কারণ ছিল না। তিনি চুপ করিয়া কেনারাম ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের সাধুভাষায় বিবৃত শাস্ত্রের বিধান শ্রবণ করিতেছিলেন। ভট্টাচার্য্য যখন তাঁহার বক্তব্য শেষ করিবেন, তখন অন্যের কথা বলিবার পূর্বেই তিনি বলিলেন “কেনারাম, তোমাদের সুবর্ণপুরে যে নুতন শাস্ত্র পাওয়া গিয়েছে, এ সংবাদ ত আমি পাই নাই।”

কেনারাম বলিলেন “নুতন শাস্ত্র কি দিদি ! যে শাস্ত্র আবহমান

১৯