চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে সকল দেশের মার্কস্পন্থীরা, লেনিনের সিদ্ধান্তের সহিত সমান মর্য্যাদা দিয়া থাকেন। অন্যদিকে আতঙ্কগ্রস্ত ধনতন্ত্রের দালালেরা দীর্ঘকাল ধরিয়া ‘ডিক্টেটর’ ও “সর্ব্বজনত্রাস” ষ্টালিনকে চেঙ্গিসখাঁ, তৈমুরলঙের ছাঁচে ঢালাই করিবার চেষ্টা করিতেছে। ষ্টালিন-চরিত আলোচনায় আমার লক্ষ্য নিন্দা বা স্তুতি নহে―নিরপেক্ষ বিদেশী লেখক এবং তাঁহার বিশ্বস্ত সহকর্ম্মীদের রচনা হইতে ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করিয়া বর্ম্মমান শতাব্দীর একজন নরকেশরীর সত্য ও সম্যক পরিচয় স্বদেশবাসীর সম্মুখে স্থাপন করিতে চেষ্টা করিব।
জোসেফ ভিসারিয়ান যুগাশ্ভিলির,―জগতে জোসেফ্, ষ্টালিন নামে পরিচিত—পিতৃমাতৃ পরিচয় অতি সাধারণ। তাঁহার পিতা ভিসারিয়ান দবিদ্র চর্ম্মকার; তাঁহার মাতা ক্যাথারিনা কৃষক দুহিতা। জর্জিয়ার গোরী সহরে এক ক্ষুদ্র সামান্য কুটিরে চর্ম্মকার-দম্পতী জুতা তৈয়ারী করিয়া কোনমতে জীবিকার্জ্জন করিতেন। তখন নূতন যন্ত্রযুগের সূচনা হইয়াছে; স্বাধীনবৃত্তি ছাড়িয়া ভিসাবিয়ান টিফ্লিসে এক জুতার কারখানার শ্রমিক হইলেন, সামান্য মজুবীর জন্য তাঁহাকে দশ বার ঘণ্টা খাটিতে হইত। ১৮৭৯ সালের ২১শে ডিসেম্বর, বিশ বৎসর বয়সে ক্যাথারিনা তাঁহার চতুর্থ পুত্রকে ক্রোডে ধারণ করিলেন। পূর্ব্বেব তিনটি শিশুর সুতিকাগারেই মৃত্যু হইয়াছিল। কিন্তু এটি বাঁচিল, জননী হৃষ্টা হইলেন। মৃদু স্বভাবা ধর্ম্মভীরু ক্যাথেরিনার ঈশ্বরের নিকট একমাত্র প্রার্থনা ছিল, তাঁহার পুত্র যেন পিতার মতই দরিদ্র চর্মকার না হয। স্বীয গৃহকর্ম্মের বাহিরে যিনি গীর্জ্জা ছাড়া আর কিছুই দেখেন নাই, যাঁহাব জাগতিক জ্ঞান ৫ হাজার অধিবাসীপূর্ণ গোবী সহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তিনি ভবিষ্যতে তাঁহার পুত্র একজন পাদ্রী বা ধর্ম্মযাজক হইবে ইহাব অধিক কল্পনা করিতে পাবিতেন না। ভিসারিয়ান পুত্রের জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে সমাগত সহকর্ম্মীদের নিকট শপথ করিয়াছিলেন, তিনি পুত্রকে একজন উত্তম চর্ম্মকারকরূপে গড়িয়া তুলিবেন।
সাত বৎসর বয়সে ষ্টালিন বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন, এখনো তাঁহাব অঙ্গে