পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


న8 সংকলন কবিকে মানিতেই হইবে। কাব্যের প্রত্যেক ঘটনাটিকে সমস্ত কাব্যের সহিত। তাঁহাকে খাপ খাওয়াইয়া লইতেই হইবে। তিনি সত্যের আভ্যন্তরিক মতিকে অক্ষণ রাখিয়া সত্যের বাহা মতিকে তাঁহার কলাসৌন্দর্যের সহিত সংগত করিয়া লইয়াছেন। তিনি অনুতাপ ও তপস্যাকে সমন্জেল করিয়া দেখাইয়াছেন, কিন্তু পাপকে তিরস্করণীর বারা কিঞ্চিৎ প্রচ্ছন্ন করিয়াছেন। শকুন্তলা নাটক প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত যে একটি শান্তি সৌন্দয ও সংযমের বারা পরিবেষ্টিত, এইরুপ না করিলে তাহা বিপর্যস্ত হইয়া যাইত। সংসারের নকল ঠিক হইত, কিন্তু কাব্যলক্ষী সকঠোর আঘাত পাইতেন। কবি কালিদাসের করণনিপুণ লেখনীর বারা তাহা কখনোই সভবপর হইত না। কবি এইরপে বাহিরের শান্তি ও সৌন্দৰ্যকে কোথাও অতিমাত্র ক্ষুব্ধ না করিয়া তাঁহার কাব্যের আভ্যন্তবিক শক্তিকে নিস্তব্ধতার মধ্যে সব দা সক্লিয় ও সবল করিয়া রাখিয়াছেন। এমনকি, তাঁহার তপোবনের বহিঃপ্রকৃতিও সবাদা অন্তরের কাজেই যোগ দিয়াছে। কখনো-বা তাহা শকুন্তলার যৌবনলীলায় আপনার লীলামধন্য অপণ করিয়াছে, কখনো-বা মঙ্গল-আশীবাদের সহিত আপনার কল্যাণমমর মিশ্রিত করিয়াছে, কখনো-বা বিচ্ছেদকালীন ব্যাকুলতার সহিত আপনার মকে বিদায়বাক্যে কর্ণা জড়িত করিয়া দিয়াছে এবং অপরাপ মন্ত্রবলে শকুন্তলার চরিত্রের মধ্যে একটি পবিত্র নির্মলতা, একটি নিধ মাধযোঁর রশ্মি নিয়ত বিকীর্ণ করিয়া রাখিয়াছে। এই শকুন্তলাকাব্যে নিস্তব্ধতা যথেস্ট আছে, কিন্তু সকলের চেয়ে নিস্তব্ধভাবে অথচ ব্যাপকভাবে কবির তপোবন এই কাব্যের মধ্যে কাজ করিয়াছে। সে কাজ টেপেস্টের এরিয়েলের ন্যায় শাসনবন্ধ দাসত্বের বাহ্য কাজ নহে—তাহা সৌন্দর্যের কাজ, প্রীতির কাজ, আত্মীয়তার কাজ, অভ্যন্তরের নিগঢ় কাজ । (টেপেন্টে শৰু শকুন্তলায় শান্ত পেস্ট বলের বাবা জয় শকুন্তলায় মঙ্গলের বারা সিন্ধি; টেপেস্টে অধ্যপথে ছেদ, শকুন্তলায় সপণতায় অবসান। টেপেস্টে মিরান্দা সরল মাধ্যযে গঠিত, কিন্তু সে সরলতার প্রতিষ্ঠা অজ্ঞতা-অনভিজ্ঞতার উপরে; শকুন্তলায় সরলতা অপরাধে দুঃখে অভিজ্ঞতায় ধৈর্ষে ও ক্ষমায় পরিপক, গভীর ও পথায়ী। গেটের সমালোচনার অনসরণ করিয়া পনবার বলি, শকুন্তলায় আরম্ভের তরণ সৌন্দয মঙ্গলময় পরম পরিণতিতে সফলতা লাভ করিয়া মতকে স্বগের সহিত সম্মিলিত করিয়া দিয়াছে। আশ্বিন ১৩০৯