পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


వ8 সংকলন কিন্তু শিশ শত সহস্র বৎসর পবে যেমন ছিল আজও তেমনি আছে; সেই অপরিবর্তনীয় পরাতন বারংবার মানবের ঘরে শিশুমতি ধরিয়া জন্মগ্রহণ করিতেছে—অথচ সর্বপ্রথম দিন সে যেমন নবীন, যেমন স্কুমার, যেমন মড়ে, যেমন মধর ছিল, আজও ঠিক তেমনি আছে। এই নবীন চিরত্বের কারণ এই যে, শিশ প্রকৃতির সজন; কিন্তু বয়স্ক মানুষ বহুলপরিমাণে মানুষের নিজকৃত রচনা। তেমনি ছড়াগুলিও শিশু-সাহিত্য; তাহারা মানব-মনে আপনি জমিয়াছে। আপনি জমিয়াছে এ কথা বলিবার একটা বিশেষ তাৎপয আছে — স্বভাবত আমাদের মনের মধ্যে বিশ্বজগতের প্রতিবিম্বব এবং প্রতিধৰনি ছিন্নবিচ্ছিন্নভাবে ঘুরিয়া বেড়ায়। তাহারা বিচিত্ররপ ধারণ করে এবং অকস্মাৎ প্রসঙ্গ হইতে প্রসঙ্গান্তরে গিয়া উপনীত হয়। যেমন বাতাসের মধ্যে পথের ধলি, পাপের রেণ্য, অসংখ্য গন্ধ, বিচিত্র শব্দ, বিচ্ছিন্ন পল্লব, জলের শীকর, পথিবীর বাপ—এই আবর্তিত আলোড়িত জগতের বিচিত্র উৎক্ষিপ্ত উত্তীন খণ্ডাংশসকল সবাদাই নিরর্থকভাবে ঘুরিয়া ফিরিয়া বেড়াইতেছে, আমাদের মনের মধ্যেও সেইরাপ। সেখানেও আমাদের নিত্যপ্রবাহিত চেতনার মধ্যে কত বর্ণ গন্ধ শব্দ, কত কল্পনার বাপ, কত চিন্তার আভাস, কত ভাষার ছিন্ন খণ্ড, আমাদের ব্যবহারজগতের কতশত পরিত্যন্ত বিসমত বিচু্যত পদাৰ্থীসকল অলক্ষিত অনাবশ্যক ভাবে ভাসিয়া ভাসিয়া বেড়ায়। যখন আমরা সচেতনভাবে কোনো-একটা বিশেষ দিকে লক্ষ্য করিয়া চিন্তা করি তখন এই-সমস্ত গঞ্জেন থামিয়া যায়, এই-সমস্ত রেণ জাল উড়িয়া যায়, এই-সমস্ত ছায়াময়ী মরীচিকা মহতের মধ্যে অপসারিত হয়; আমাদের কল্পনা, আমাদের বন্ধি একটা বিশেষ ঐক্য অবলম্বন করিয়া একাগ্রভাবে প্রবাহিত হইতে থাকে। আকাশে পাখির ডাক, পাতার মমরি, জলের কল্লোল, লোকালয়ের মিশ্রিত ধৰনি, ছোটো বড়ো কত সহস্র প্রকার কলশব্দ নিরন্তর ধর্মনিত হইতেছে—এবং আমাদের চতুদিকে কত কক্ষপন, কত আন্দোলন, কত গমন, কত আগমন, ছায়ালোকের কতই চঞ্চল লীলাপ্রবাহ প্রতিনিয়ত আবতিত হইতেছে—অথচ তাহার মধ্যে কতই যৎসামান্য অংশ আমাদের গোচর হইয়া থাকে; তাহার প্রধান কারণ এই যে, ধীবরের ন্যায় আমাদের মন ঐক্যজাল ফেলিয়া একেবারে এক খেপে যতখানি ধরিতে পারে সেইটুকু গ্রহণ করে, বাকি সমস্তই তাহাকে এড়াইয়া যায়। সে যখন দেখে তখন ভালো করিয়া শোনে না, যখন শোনে তখন ভালো করিয়া দেখে না এবং সে যখন চিন্তা করে তখন ভালো করিয়া দেখেও না শোনেও না। তাহার উদ্দেশ্যের পথ