পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ᎼᎸ হইতে সমস্ত অনাবশ্যক পদার্থকে সে অনেকটা পরিমাণে দরে করিয়া দিতে পারে। কিন্তু সহজ অবস্থায় আমাদের মানসাকাশে সবনের মতো যে-সকল ছায়া এবং শব্দ যেন কোন অলক্ষ্য বায় প্রভাবে দৈবচালিত হইয়া কখনো সংলগ্ন কখনো বিচ্ছিন্নভাবে বিচিত্র আকার ও বর্ণ -পরিবতন-পবেক ক্ৰমাগত মেঘরচনা করিয়া বেড়াইতেছে, তাহারা যদি কোনো অচেতন পটের উপর নিজের প্রতিবিম্বপ্রবাহ চিহ্নিত করিয়া যাইতে পারিত.. তবে তাহার সহিত আমাদের আলোচ্য এই ছড়াগলির অনেক সাদশ্য দেখিতে পাইতাম। এই ছড়াগলি আমাদের নিয়তপরিবতিত অন্তরাকাশের ছায়ামাত্র, তরল স্বচ্ছ সরোবরের উপর মেঘক্লীড়িত নভোমণ্ডলের ছায়ার মতো। সেইজন্যই বলিয়াছিলাম, , ইহারা আপনি জন্মিয়াছে। উদাহরণস্বরপে এইখানে দই-একটি ছড়া উদ্ধত করিবার প্রবে: পাঠকদের নিকট মাজনা ভিক্ষা করি। প্রথমত, এই ছড়াগলির সঙ্গে চিরকাল যে সেনহাদ্র সরল মধ্যর কন্ঠ ধৰ্মনিত হইয়া আসিয়াছে, আমার মতো মযাদাভীর গভীরস্বভাব বয়স্ক পরষের লেখনী হইতে সে ধনি কেমন করিয়া ক্ষরিত হইবে। পাঠকগণ আপন গহ হইতে, আপন বাল্যসমতি হইতে সেই সধানিধ সরটুকু মনে মনে সংগ্ৰহ করিয়া লইবেন। ইহার সহিত যে সেনহটি, যে সংগীতটি, যে সন্ধ্যাপ্রদীপালোকিত সৌন্দয ছবিটি চিরদিন একাত্মভাবে মিশ্রিত হইয়া আছে, সে আমি কোন মোহমন্ত্রে পাঠকদের সম্মখে আনিয়া উপস্থিত করিব। দ্বিতীয়ত, আটঘাট-বাঁধা রীতিমতো সাধভাষার প্রবন্ধের মাঝখানে এইসমস্ত গহচারিণী অকৃতবেশী অসংস্কৃতা মেয়েলি ছড়াগলিকে দাঁড় করাইয়া দিলে তাহাদের প্রতি কিছু অত্যাচার করা হয়, যেন আদালতের সাক্ষ্যমঞ্চে ঘরের বধকে উপস্থিত করিয়া জেরা করা। কিন্তু উপায় নাই। আদালতের নিয়মে আদালতের কাজ হয়, প্রবন্ধের নিয়মানসারে প্রবন্ধ রচনা করিতে হয়— নিষ্ঠরতাটুকু অপরিহার্য। যমনাবতী সরস্বতী কাল যমনার বিয়ে। যমনা যাবেন বশরবাড়ি কাজিতলা দিয়ে৷ কাজিফলে কুড়োতে পেয়ে গেলাম মালা। হাত-ঝমঝম পা-ঝমকম সীতারামের খেলা ॥ নাচো তো সাঁতারাম কাঁকাল বেকিয়ে । আলোচাল দেব টাপাল ভরিয়ে ॥