পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏb সংকলন আলোচাল খেতে খেতে গলা হল কাঠ। হেথায় তো জল নেই ত্রিপাণির ঘাট। ত্রিপণির ঘাটে দটো মাছ ভেসেছে। একটি নিলেন গরষ্ঠাকুর একটি নিলেন কে। তার বোনকে বিয়ে করি ওড়ফল দিয়ে ॥ ওড়ফল কুড়োতে হয়ে গেল বেলা। তার বোনকে বিয়ে করি ঠিক দক্ষর বেলা ॥ ইহার মধ্যে ভাবের পরপরসস্তবন্ধ নাই, সে কথা নিতান্ত পক্ষপাতী সমালোচককেও স্বীকার করিতে হইবে। কতকগুলি অসংলগ্ন ছবি নিতান্ত সামান্য প্রসঙ্গসত্র অবলম্বন করিয়া উপস্থিত হইয়াছে। দেখা যাইতেছে কোনোপ্রকার বাছ-বিচার নাই। যেন কবিত্বের সিংহদ্বারে নিস্তৰধ শারদ মধ্যাহ্নের মধর উত্তাপে বারবান বেটা দিব্য পা ছড়াইয়া দিয়া ঘামাইয়া পড়িয়াছে। কথাগুলো ভাবগুলো কোনোপ্রকার পরিচয় প্রদানের অপেক্ষা না রাখিয়া, কোনোরপে উপলক্ষ অন্বেষণ না করিয়া, অনায়াসে তাহার পা ডিঙাইয়া, এমনকি, মাঝে মাঝে লঘকরপশে তাহার কান মলিয়া দিয়া কলপনার অভ্ৰভেদী মায়াপ্রাসাদে ইচ্ছাসখে আনাগোনা করিতেছে। বারবানটা যদি ঢলিতে ঢলিতে হঠাৎ একবার চমক খাইয়া জাগিয়া উঠিত, তবে সেই মহেতেই তাহারা কে কোথায় দৌড় দিত তাহার আর ঠিকানা পাওয়া যাইত না। যমনাবতী সরস্বতী যিনিই হউন, আগামী কল্য যে তাঁহার শভেবিবাহ সে কথার স্পষ্টই উল্লেখ দেখা যাইতেছে। অবশ্য বিবাহের পর যথাকালে কাজিতলা দিয়া যে তাঁহাকে বশরবাড়ি যাইতে হইবে, সে কথা আপাতত উত্থাপন না করিলেও চলিত; যাহা হউক, তথাপি কথাটা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক হয় নাই। কিন্তু বিবাহের জন্য কোনোপ্রকার উদ্যোগ অথবা সেজন্য কাহারো তিলমাত্র ঔৎসুক্য আছে, এমন কিছুই পরিচয় পাওয়া যায় না। ছড়ার রাজ্য তেমন রাজ্যই নহে। সেখানে সকল ব্যাপারই এমন অনায়াসে ঘটিতে পারে এবং এমন অনায়াসে না ঘটিতেও পারে যে, কাহাকেও কোনো-কিছর জন্যই কিছমাত্র দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা ব্যস্ত হইতে হয় না। অতএব আগামী কল্য শ্ৰীমতী যমুনাবতীর বিবাহের দিন স্থির হইলেও সে ঘটনাটাকে বিন্দমাত্র প্রাধান্য দেওয়া হয় নাই। তবে সে কথাটা আদৌ কেন উত্থাপিত হইল তাহার জবাবদিহির জন্যও কেহ ব্যস্ত নহে। কাজিফলে যে কাঁ ফল আমি নগরবাসী তাহা ঠিক করিয়া বলিতে পারি না, কিন্তু ইহা পস্ট অনমান করিতেছি যে,