পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SO २ সংকলন ধানের খই’। যেন ঘটনার সত্যসম্বন্ধে তিলমাত্র সখলন হইবার জো নাই। অথচ এই সংশোধনের স্বারা বর্ণিত ফলাহারের খব যে একটা ইতরবিশেষ হইয়াছে, জামাই-আদর সম্বন্ধে বশরবাড়ির গৌরব খুব উজ্জলতররপে পরিসফট হইয়া উঠিয়াছে, তাহাও বলিতে পারি না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শ্বশরবাড়ির মযাদা অপেক্ষা সত্যের মযাদা রক্ষার প্রতি কবির যে অধিক লক্ষ দেখা যাইতেছে, তাও ঠিক বলিতে পারি না। বোধ করি ইহাও সবনের মতো। বোধ করি শালিধানের চিড়িা দেখিতে দেখিতে পরমহতে বিন্নিধানের খই হইয়া উঠিয়াছে। বোধ করি শিবঠাকুরও কখন এমনি করিয়া শিব সদাগরে পরিণত হইয়াছে কেহ বলিতে পারে না। শনা যায়, মঙ্গল ও বৃহস্পতির কক্ষমধ্যে কতকগুলি টকেরা গ্রহ আছে। কেহ কেহ বলেন, একখানা আসত গ্রহ ভাঙিয়া খন্ড খণ্ড হইয়া গিয়াছে। এই ছড়াগুলিকেও সেইরাপ টুকরা জগৎ বলিয়া আমার মনে হয়। অনেক প্রাচীন ইতিহাস, প্রাচীন সমতির চর্ণ অংশ এই-সকল ছড়ার মধ্যে বিক্ষিপ্ত হইয়া আছে, কোনো পরাতত্ত্ববিৎ আর তাহাদিগকে জোড়া দিয়া এক করিতে পারেন না, কিন্তু আমাদের কল্পনা এই ভগ্নাবশেষগুলির মধ্যে সেই বিস্মত প্রাচীন জগতের একটি সদর অথচ নিকট পরিচয় লাভ করিতে চেষ্টা করে। অবশ্য বালকের কল্পনা এই ঐতিহাসিক ঐক্য রচনার জন্য উৎসকে নহে। তাহার নিকট সমস্তই বর্তমান এবং তাহার নিকট বর্তমানেরই গৌরব। সে কেবল প্রত্যক্ষ ছবি চাহে এবং সেই ছবিকে ভাবের অশ্রদ্বাপে ঝাপসা করিতে চাহে না । নিম্নোদধত ছড়াটিতে অসংলগ্ন ছবি যেন পাখির ঝাঁকের মতো উড়িয়া চলিয়াছে। ইহাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র দ্রুত গতিতে বালকের চিত্ত উপযাপরি নব নব আঘাত পাইয়া বিচলিত হইতে থাকে। নোটন নোটন পায়রাগলি ঝোঁটন রেখেছে। বড়োসাহেবের বিবিগলি নাইতে এসেছে। দ-পারে দই রই কাংলা ভেসে উঠেছে। দাদার হাতে কলম ছিল ছুড়ে মেরেছে। ওপারেতে দটি মেয়ে নাইতে নেমেছে। ঝন ঝন চুলগাছটি ঝাড়তে নেগেছে। কে রেখেছে কে রেখেছে দাদা রেখেছে। আজ দাদার ঢেলা ফেলা, কাল দাদার বে। দাদা যাবে কোনখান দে, বকুলতলা দে ॥