পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া >O○ বকুলফল কুড়োতে কুড়োতে পেয়ে গেলাম মালা। . রামধনকে বান্দি বাজে সাঁতেনাথের খেলা। সাঁতেনাথ বলে রে ভাই চালকড়াই খাব। O চাল কড়াই খেতে খেতে গলা হল কাঠ । হেথা হোথা জল পাব চিৎপরের মাঠ। চিৎপরের মাঠেতে বালি চিকচিক করে। সোনামখে রোদ নেগে রক্ত ফেটে পড়ে। ইহার মধ্যে কোনো ছবিই আমাদিগকে ধরিয়া রাখে না, আমরাও কোনো ছবিকে ধরিয়া রাখিতে পারি না। ঝেটিনবিশিষ্ট নোটনপায়রাগলি, বড়োসাহেবের বিবিগণ, দই পারে ভাসমান দুই রাইকাংলা, পরপারে নাননিরত দই মেয়ে, দাদার বিবাহ, রামধনকের বাদ্যসহকারে সীতানাথের খেলা, এবং মধ্যাহ্নরৌদ্রে তপতবালকোচিক্কণ মাঠের মধ্যে খরতাপক্লিষ্ট রক্তমুখচ্ছবি—এ সমস্তই সবনের মতো। ওপারে যে দুইটি মেয়ে নাহিতে বসিয়াছে এবং দই হাতের চুড়িতে চুড়িতে ঝন ঝন শব্দ করিয়া চুল ঝাড়িতেছে তাহারা ছবির হিসাবে প্রত্যক্ষ সত্য, কিন্তু প্রাসঙ্গিকতা হিসাবে অপরাপ সবগুন। এ কথাও পাঠকদের সমরণে রাখা কতব্য যে, স্বপন রচনা করা বড়ো কঠিন। হঠাৎ মনে হইতে পারে যে, যেমন-তেমন করিয়া লিখিলেই ছড়া লেখা যাইতে পারে। কিন্তু সেই যেমন-তেমন ভাবটি পাওয়া সহজ নহে। সংসারের সকল কাযে’ই আমাদের এমনি অভ্যাস হইয়া গেছে যে, সহজ ভাবের অপেক্ষা সচেন্ট ভাবটাই আমাদের পক্ষে সহজ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। না ডাকিলেও বাস্তবাগীশ চেষ্টা সকল কাজের মধ্যে আপনি আসিয়া হাজির হয়। এবং সে যেখানেই হস্তক্ষেপ করে সেইখানেই ভাব আপন লঘু মেঘাকার ত্যাগ করিয়া দানা বধিয়া উঠে, তাহার আর বাতাসে উড়িবার ক্ষমতা থাকে না। এইজন্য ছড়া জিনিসটা যাহার পক্ষে সহজ তাহার পক্ষে নিরতিশয় সহজ, কিন্তু যাহার পক্ষে কিছমাত্র কঠিন তাহার পক্ষে একেবারেই অসাধ্য। যাহা সবাপেক্ষা সরল তাহা সবাপেক্ষা কঠিন; সহজের প্রধান লক্ষণই এই ৷ পাঠক বোধ করি ইহাও লক্ষ্য করিয়া দেখিয়া থাকিবেন, আমাদের প্রথমোদধত ছড়াটির সহিত এই ছড়া কেমন করিয়া মিশিয়া গিয়াছে। যেমন মেঘে মেঘে বনে বনে মিলাইয়া যায়, এই ছড়াগুলিও তেমনি পরপর জড়িত মিশ্রিত হইতে থাকে, সেজন্য কোনো কবি চুরির অভিযোগ করেন না এবং কোনো সমালোচকও ভাববিপর্যয়ের দোষ দেন না। বাসতবিকই এই ছড়াগলি