পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার হেরফের 6; , আমাদের নীরস শিক্ষায় জীবনের সেই মাহেন্দু ক্ষণ অতীত হইয়া যায়। আমরা বাল্য হইতে কৈশোর এবং কৈশোর হইতে যৌবনে প্রবেশ করি কেবল কতকগলা কথার বোঝা টানিয়া। এইরপে বিশ-বাইশ বৎসর ধরিয়া আমরা যে-সকল ভাব শিক্ষা করি, আমাদের জীবনের সহিত তাহার একটা রাসায়নিক মিশ্রণ হয় না বলিয়া আমাদের মনের ভারি একটা অদ্ভুত চেহারা বাহির হয়। শিক্ষিত ভাবগলি কতক আটা দিয়া জোড়া থাকে, কতক কালক্রমে ঝরিয়া পড়ে। অসভোরা যেমন গায়ে রঙ মাখিয়া উলকি পরিয়া পরম গব। অনুভব করে, স্বাভাবিক সবাস্থ্যের উজ্জলতা এবং লাবণ্য আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে, আমাদের বিলাতি বিদ্যা আমরা সেইরাপ গায়ের উপর লেপিয়া দম্ভভরে পা ফেলিয়া বেড়াই, আমাদের যথাথ আন্তরিক জীবনের সহিত তাহার অপেই যোগ থাকে। অসভ্য রাজারা যেমন কতকগলা শসতা বিলাতি কাচখণ্ড পতি প্রভৃতি লইয়া শরীরের যেখানে সেখানে ঝালাইয়া রাখে এবং বিলাত সাজসজা অযথাপথানে বিন্যাস করে, বঝিতেও পারে না কাজটা কিরপে অদ্ভুত এবং হাস্যজনক হইতেছে, আমরাও সেইরাপ কতকগলা শপতা চকচকে বিলাতি কথা লইয়া ঝলমল করিয়া বেড়াই এবং বিলাতি বড়ো বড়ো ভাবগলি লইয়া হয়তো সম্পণে অযথাস্থানে অসংগত প্রয়োগ করি—আমরা নিজেও বঝিতে পারি না অজ্ঞাতসারে কী একটা অপব প্রহসন অভিনয় করিতেছি এবং কাহাকেও হাসিতে দেখিলে তৎক্ষণাৎ য়রোপীয় ইতিহাস হইতে বড়ো বড়ো নজির প্রয়োগ कद्भिग्ना थाकि । বাল্যকাল হইতে যদি ভাষাশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভাবশিক্ষা হয় এবং ভাবের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত জীবনযাত্রা নিয়মিত হইতে থাকে, তবেই আমাদের সমস্ত জীবনের মধ্যে একটা যথার্থ সামঞ্জস্য পথাপিত হইতে পারে—আমরা বেশ সহজ মানষের মতো হইতে পারি এবং সকল বিষয়ের একটা যথাযথ পরিমাণ ধরিতে পারি। যখন আমরা একবার ভালো করিয়া ভাবিয়া দেখি যে, আমরা যে ভাবে জীবন নিবাহ করিব আমাদের শিক্ষা তাহার আনপোতিক নহে; আমরা যে গহে আমৃত্যুকাল বাস করিব সে গহের উন্নত চিত্র আমাদের পাঠ্যপুস্তকে নাই; আমাদের দৈনিক জীবনের কার্যকলাপ তাহার বর্ণনার মধ্যে কোনো স্থান পায় না; আমাদের আকাশ এবং পথিবী, আমাদের নিমাল প্রভাত এবং সন্দের সন্ধ্যা, আমাদের পরিপণ শস্যক্ষেত্র এবং দেশলক্ষী স্রোতস্বিনীর কোনো সংগীত তাহার মধ্যে ধৰনিত হয় না, তখন বকিতে পারি আমাদের