পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া 30& দ্বিতীয় ছড়ায় দেখিতে পাই সীতানাথ চালকড়াই খাইয়া জলের অন্বেষণে চিৎপরের মাঠে গিয়া উপস্থিত হইয়াছিল; কিন্তু তৃতীয় ছড়ায় দেখা যাইতেছে—সাঁতারামও নহে, সীতানাথও নহে, পরন্তু কোনো-এক হতভাগিনী ভ্রাতৃজায়ার বিদ্বেষপরায়ণা ননদিনী জতিফল ভক্ষণের পর তৃষাতুর হইয়া হরগৌরীর মাঠে পান খাইতে গিয়াছিল এবং পরে অসাবধানা ভ্রাতৃবধর তুচ্ছ অপরাধটকু দাদাকে বলিয়া দিবার জন্য পাড়া তোলপাড় করিয়া তুলিয়াছিল। এই তো তিন ছড়ার মধ্যে অসংগতি। তার পর প্রত্যেক ছড়ার নিজের মধ্যেও ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখা যায় না। বেশ বঝো যায় অধিকাংশ কথাই বানানো। কিন্তু ইহাও দেখিতে পাই, কথা বানাইতে গেলে লোকে প্রমাণের প্রাচুর্য বারা সেটাকে সত্যের অপেক্ষা অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য করিয়া তোলে; অথচ এ ক্ষেত্রে সে পক্ষে খেয়ালমাত্র নাই। ইহাদের কথা সত্যও নহে মিথ্যাও নহে; দইয়ের বার। ঐ যে ছড়ার এক জায়গায় সবলের বিবাহের উল্লেখ আছে, সেটা কিছু অসম্ভব ঘটনা নহে। কিন্তু সত্য বলিয়াও বোধ হয় না। ‘দাদা দাদা ডাক ছাড়ি দাদা নাইকো বাড়ি। সবল সবল ডাক ছাড়ি সবল আছে বাড়ি। যেমনি সবলের নামটা মুখে আসিল অমনিই বাহির হইয়া গেল—‘আজ সবলের অধিবাস, কাল সবলের বিয়ে। সে কথাটাও পথায়ী হইল না, অনতিবিলবেই দিগনগরের দীর্ঘকেশা মেয়েদের কথা উঠিল। স্বনেও ঠিক এইরুপ ঘটে। হয়তো শব্দসাদশ্য অথবা অন্য কোনো অলীক তুচ্ছ সম্বন্ধ অবলম্বন করিয়া মহাতে মহতে একটা কথা হইতে আর-একটা কথা রচিত হইয়া উঠিতে থাকে। মহোতকাল পাবে তাহাদের সম্ভাবনার কোনোই কারণ ছিল না, মহন্তকাল পরেও তাহারা সম্ভাবনার রাজ্য হইতে বিনা চেষ্টায় অপসত হইয়া যায়। সবলের বিবাহকে যদি-বা পাঠকগণ তৎকালীন ও তৎপথানীয় কোনো সত্য ঘটনার আভাস বলিয়া জ্ঞান করেন, তথাপি সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিবেন, নাল গামছা দিয়ে টিয়ের মার বিয়ে কিছতেই সাময়িক ইতিহাসের মধ্যে পথান পাইতে পারে না। কারণ, বিধবাবিবাহ টিয়েজাতির মধ্যে প্রচলিত থাকিলেও নাল-গামছার ব্যবহার উত্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে কস্মিন কালে শনা যায় নাই। কিন্তু যাহাদের কাছে ছন্দের তালে তালে সমিট কণ্ঠে এই-সকল অসংলগ্ন অসম্ভব ঘটনা উপস্থিত করা হইয়া থাকে, তাহারা বিশ্বাসও করে না, সন্দেহও করে না, তাহারা মনশচক্ষে স্বপ্নবং প্রত্যক্ষবং ছবি দেখিয়া যায়। বালকেরা ছবিও অতিশয় সহজে ব্যপায়োজনে দেখিতে পায়। বালক যত সহজে ইচ্ছামাত্রই সজন করিতে পারে আমরা তেমন পারি না। ভাবিয়া দেখো,