পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া S09 আয় রে আয় ছেলের পাল মাছ ধরতে যাই । মাছের কাঁটা পায়ে ফাটল দোলায় চেপে যাই। দোলায় আছে ছ-পণ কড়ি গনতে গনতে যাই। এ নদীর জলটুকু টলমল করে। এ নদীর ধারে রে ভাই বালি ঝরঝরে করে। চাঁদমখেতে রোদ লেগেছে রক্ত ফটে পড়ে। দোলায় করিয়া ছয় পণ কড়ি গনিতে গনিতে যাওয়াকে যদি পাঠকেরা ছবির হিসাবে অকিঞ্চিৎকর জ্ঞান করেন, তথাপি শেষ তিন ছত্রকে তাঁহারা উপেক্ষা করিবেন না। নদীর জলটকু টলমল করিতেছে এবং তাঁরের বালি ঝরঝরে করিয়া খসিয়া খসিয়া পড়িতেছে, বালতটবতী নদীর এমন সংক্ষিপ্ত সরল অথচ সপেন্ট ছবি আর কী হইতে পারে। এই তো একশ্রেণীর ছবি গেল। আর-এক শ্রেণীর ছবি আছে যাহা বর্ণনীয় বিষয় অবলম্ববন করিয়া একটা সমগ্র ব্যাপার আমাদের মনের মধ্যে জাগ্রত করিয়া দেয়। হয়তো একটা তুচ্ছ বিষয়ের উল্লেখে সমসত বঙ্গগহ বঙ্গসমাজ সজীব হইয়া উঠিয়া আমাদের হৃদয়কে পশ করে। সে-সমস্ত তুচ্ছ কথা বড়ো বড়ো সাহিত্যে তেমন সহজে তেমন অবাধে তেমন অসংকোচে প্রবেশ করিতে পারে না; এবং প্রবেশ করিলেও আপনিই তাহার রুপান্তর ও ভাবান্তর হইয়া যায়। দাদা গো দাদা শহরে যাও। তিন টাকা করে মাইনে পাও ॥ হেই দাদা তোমার পায়ে পড়ি। বউ এনে দাও খেলা করি ॥ দাদার বেতন অধিক নহে, কিন্তু বোনটির মতে তাহাই প্রচুর। এই তিন টাকা বেতনের সচ্ছলতার উদাহরণ দিয়াই ভগনীটি অননয় করিতেছেন— হেই দাদা তোমার পায়ে পড়ি। বউ এনে দাও খেলা করি ॥ চতুরা বালিকা নিজের এই বাৰ্থ-উদ্ধারের জন্য দাদাকেও প্রলোভনের ছলে আভাস দিতে ছাড়ে নাই যে, বউ বরনে চন্দ্রকলা’। যদিও ভগ্নীর খেলনাটি তিন টাকা বেতনের পক্ষে অনেক মহার্ঘ্য, তথাপি নিশ্চয় বলিতে পারি, তাহার কাতর অনুরোধ রক্ষা করিতে বিলম্বব হয় নাই, এবং সেটা bf