পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>>O সংকলন খোকা বলে পাখিটি কোন বিলে চরে। খোকা বলে ডাক দিলে উড়ে এসে পড়ে ॥ ক্ষীরনদীর কলে মাছ ধরিতে গিয়া খোকা যে কী সংকটেই পড়িয়াছিল তাহা কি তুলি দিয়া না অকিলে মনের ক্ষোভ মেটে। অবশ্য, ক্ষীরনদীর ভূগোলবত্তান্ত খোকাবাব আমাদের অপেক্ষা অনেক ভালো জানেন সন্দেহ নাই; কিন্তু যে নদীতেই হোক, তিনি যে প্রাজ্ঞোচিত ধৈর্যাবলম্বন করিয়া পরম গভীরভাবে নিজ আয়তনের চতুগণ দীঘ এক ছিপ ফেলিয়া মাছ ধরিতে বসিয়াছেন তাহাই যথেষ্ট কৌতুকাবহ, তাহার উপর যখন জল হইতে ড্যাবা চক্ষ মেলিয়া একটা অত্যন্ত উৎকট-গোছের কোলা বেঙ খোকার ছিপ লইয়া টান মারিয়াছে এবং অন্য দিকে ডাঙা হইতে চিল আসিয়া মাছ ছোঁ মারিয়া লইয়া চলিয়াছে, তখন তাঁহার বিব্রত বিস্মিত ব্যাকুল মুখের ভাব—একবারবা প্রাণপণ শক্তিতে পশ্চাতে ঝ:কিয়া পড়িয়া ছিপ লইয়া টানাটানি, একবার-বা সেই উভীন চেীরের উদ্দেশে দই উৎসকে ব্যগ্র হস্ত উধের উৎক্ষেপ— এ-সমস্ত চিত্র সনিপুণ সহদেয় চিত্রকরের প্রত্যাশায় বহনকাল হইতে প্রতীক্ষা করিতেছে। আবার খোকার পক্ষীমতিও চিত্রের বিষয় বটে। মস্ত একটা বিল চোখে পড়িতেছে। তাহার ওপারটা ভালো দেখা যায় না। এপারে তীরের কাছে একটা কোণের মতো জায়গায় বড়ো বড়ো ঘাস, বেতের ঝাড় এবং ঘন কচুর সমাবেশ ; জলে শৈবাল এবং নালফলের বন; তাহারই মধ্যে লম্ববচঞ্চ দীঘপদ গভীরপ্রকৃতি ধ্যানপরায়ণ গোটাকতক বক-সারসের সহিত মিশিয়া খোকাবাব; ডানা গটাইয়া নতশিরে অত্যন্ত নিবিষ্টভাবে চরিয়া বেড়াইতেছেন, এ দশ্যটিও বেশ–এবং বিলের অনতিদরে ভাদ্রমাসের জলমগ্ন পক্কশীষ। ধান্যক্ষেত্রের সংলগ্ন একটি কুটির; সেই কুটিরপ্রাঙ্গণে বাঁশের বেড়ার উপরে বাম হস্ত রাখিয়া দক্ষিণ হস্ত বিলের অভিমুখে সম্পণে প্রসারিত করিয়া দিয়া অপরাহের অবসান-সন্যালোকে জননী তাঁহার খোকাবাবকে ডাকিতেছেন; বেড়ার নিকটে ঘরে-ফেরা বাঁধা গোরটিও স্তিমিত কৌতুহলে সেই দিকে চাহিয়া দেখিতেছে, এবং ভোজনতৃত খোকাবাব নালবন-শৈবালবনের মাঝখানে সেও সন্দের দশ্য—এবং তাহার পর তৃতীয় দশ্যে পাখিটি মার বকে গিয়া তাহার কাঁধে মাখ লুকাইয়াছে এবং দই ডানায় তাঁহাকে অনেকটা ঝাঁপিয়া ফেলিয়াছে এবং নিমলিতনেত্রে মা দই হতে সকোমল ডানা-সন্ধ তাহাকে