পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ১১১ বেস্টন করিয়া নিবিড় স্নেহবন্ধনে বকে বধিয়া ধরিয়াছেন, সেও সন্দের দেখিতে হয়। জ্যোতিবিদগণ ছায়াপথের নীহারিকা পর্যবেক্ষণ করিতে করিতে দেখিতে পান, সেই জ্যোতিময় বাৎপরাশির মধ্যে এক-এক জায়গায় যেন বাপ সংহত হইয়া নক্ষত্রে পরিণত হইবার উপক্ৰম করিতেছে। আমাদের এই ছড়ার নীহারিকারাশির মধ্যেও সহসা পথানে সথানে সেইরাপ অধঃসংহত আকারবন্ধ কবিত্বের মতি দটিপথে পড়ে। সেই-সকল নবীনসন্ট কল্পনামন্ডলের মধ্যে জটিলতা কিছল নাই—প্রথম বয়সের শিশু-পথিবীর ন্যায় এখনো সে কিঞ্চিং তরলাবস্থায় আছে, কঠিন হইয়া উঠে নাই। একটা উদ্ধত করি— জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ। চার কালো দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ ॥ কাক কালো, কোকিল কালো, কালো ফিঙের বেশ । তাহার অধিক কালো কন্যে, তোমার মাথার কেশ ৷ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ । চার ধলো দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ ॥ বক ধলো, বস্ত্র ধলো, ধলো রাজহংস। তাহার অধিক ধলো কন্যে, তোমার হাতের শঙ্খ ॥ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ। চার রাঙা দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ। জবা রাঙা, করবী রাঙা, রাঙা কুসমফল। তাহার অধিক রাঙা কন্যে, তোমার মাথার সিদর। জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ। চার তিতো দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ ॥ নিম তিতো, নিসন্দে তিতো, তিতো মাকাল ফল। তাহার অধিক তিতো কন্যে, বোন-সতিনের ঘর। জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ জাদ, এ তো বড়ো রঙ্গ। চার হিম দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ। হিম জল, হিম পথল, হিম শীতলপাটি। তাহার অধিক হিম কন্যে, তোমার বকের ছাতি ॥ কবিসম্প্রদায় কবিত্বসটির আরম্ভকাল হইতে বিবিধ ভাষায় বিচিত্র ছন্দে নারীজাতির স্তবগান করিয়া আসিতেছেন, কিন্তু উপরি-উদ্ধত স্তবগানের মধ্যে যেমন একটি সরল সহজ ভাব এবং একটি সরল সহজ চিত্র আছে, এমন