পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া SSలి কন্যাটি—যাহার মাথার কেশ ফিঙের অপেক্ষা কালো, হাতের শাখা রাজহংসের অপেক্ষা ধলো, সি’থার সিদর কুসুমফলের অপেক্ষা রাঙা, সেনহের কোল ছেলেদের কথার অপেক্ষা মিস্ট এবং বক্ষঃপথল শীতল জলের অপেক্ষা স্নিগ্ধ, সেই মেয়েটি—যে মেয়ে সামান্য কয়েকটি স্তুতিবাক্য শুনিয়া সহজ বিশ্বাসে ও সরল আনন্দে আত্মবিসর্জন করিতে প্রস্তুত হইয়াছে, তাহাকে আমাদের সেই বর্ণনাবহল মাজিত ছন্দের বন্ধনের মধ্যে এমন করিয়া চিরকালের মতো ধরিয়া রাখতে পারিতাম না। কেবল এই ছড়াটি কেন, আমাদের উপর ভার দিলে আমরা অধিকাংশ ছড়াই সম্পণে সংশোধন করিয়া নতন সংস্করণের যোগ্য করিয়া তুলিতে পারি। এমনকি, উহাদের মধ্যে সবজনবিদিত নীতি এবং সবজনদবোধ তত্ত্বজ্ঞানেরও বাসা নিমাণ করিতে পারি। কিছ না হউক, উহাদিগকে আমাদের বর্তমান শিক্ষা ও সামাজিক অবসথার উন্নততর শ্রেণীতে উত্তীণ করিয়া দিতে পারি। বিবেচনা করিয়া দেখন, আমরা যদি কখনো আমাদের বর্তমান সভ্যসমাজে চাঁদকে নিমন্ত্রণ করিয়া আনিতে ইচ্ছা করি, তবে কি তাহাকে নিম্নলিখিতরীপে তুচ্ছ প্রলোভন দেখাইতে পারি। আয় আয় চাঁদা মামা টী দিয়ে যা। চাঁদের কপালে চাঁদ টী দিয়ে যা। মাছ কুটলে মড়ো দেব, ধান ভানলে কুড়ো দেব, কালো গোরর দধে দেব, দধ খাবার বাটি দেব, . চাঁদের কপালে চাঁদ টী দিয়ে যা ৷ এ কোন চাঁদ। নিতান্তই বাঙালির ঘরের চাঁদ। এ আমাদের বাল্যসমাজের সবজ্যেষ্ঠ সাধারণ মাতুল চাঁদা। এ আমাদের গ্রামের কুটিরের নিকটে বায়ন-আন্দোলিত বাঁশবনের রন্ধগুলির ভিতর দিয়া পরিচিত স্নেহহাস্যমথে প্রাঙ্গণধলিবিলাঠিত উলঙ্গ শিশরে খেলা দেখিয়া থাকে ; ইহার সঙ্গে আমাদের গ্রামসম্পক আছে। নতুবা এত বড়ো লোকটা—যিনি সপ্তবিংশতি নক্ষত্রসন্দরীর অন্তঃপরে বর্ষ যাপন করিয়া থাকেন, যিনি সমস্ত সরলোকের সাধারস আপনার অক্ষয় রৌপ্যপাত্রে রাত্রিদিন রক্ষা করিয়া আসিতেছেন— সেই শশলাঞ্ছন হিমাংশমালীকে মাছের মড়ো, ধানের কুড়ো, কালো গোরর দন্ধ খাবার বাটির প্রলোভন দেখাইতে কে সাহস করিত। আমরা হইলে বোধ করি পারিজাতের মধ্য, রজনীগন্ধার সৌরভ, বেী-কথা-কও’এর গান,