পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


筠 সংকলন শিক্ষার সহিত আমাদের জীবনের তেমন নিবিড় মিলন হইবার কোনো.. স্বাভাবিক সম্ভাবনা নাই; উভয়ের মাঝখানে একটা ব্যবধান থাকিবেই থাকিবে; আমাদের শিক্ষা হইতে আমাদের জীবনের সমস্ত আবশ্যকীয় অভাবের পরণ হইতে পারিবেই না। আমরা যে শিক্ষায় আজন্মকাল যাপন করি সে শিক্ষা কেবল আমাদিগকে কেরানিগিরি অথবা কোনো-একটা ব্যবসায়ের উপযোগী করে মাত্র। এইজন্য যখন দেখা যায় একই লোক এক দিকে য়রোপীয় দশন বিজ্ঞান এবং ন্যায়শাসে সপণ্ডিত, অন্য দিকে চিরকুসংস্কারগুলিকে সযত্নে পোষণ করিতেছেন ; এক দিকে স্বাধীনতার উচ্চজন্বল আদশ মুখে প্রচার করিতেছেন, অন্য দিকে অধীনতার শতসহস্র লতাতন্তুপাশে আপনাকে । এবং অন্যকে প্রতি মহাতে আচ্ছন্ন ও দ্রবল করিয়া ফেলিতেছেন; এক দিকে বিচিত্রভাবপণ সাহিত্য স্বতন্ত্রভাবে সম্বেভাগ করিতেছেন, অন্য দিকে জীবনকে ভাবের উচ্চশিখরে অধিরঢ়ে করিয়া রাখিতেছেন না—কেবল ধনোপাজন এবং বৈষয়িক উন্নতিসাধনেই ব্যস্ত—তখন আর আশ্চর্য বোধ হয় না। কারণ, তাঁহাদের বিদ্যা এবং ব্যবহারের মধ্যে একটা সত্যকার দাভেদ্য ব্যবধান আছে, উভয়ে কখনো সদসংলগ্নভাবে মিলিত হইতে পায় না। এইরপে জীবনের এক-তৃতীয়াংশ কাল যে শিক্ষায় যাপন করিলাম, তাহা । যদি চিরকাল আমাদের জীবনের সহিত অসংলগ্ন হইয়া রহিল এবং অন্য শিক্ষালাভের অবসর হইতেও বঞ্চিত হইলাম, তবে আর আমরা কিসের জোরে একটা যাথাথ্য লাভ করিতে পারিব। আমাদের এই শিক্ষার সহিত জীবনের সামঞ্জস্যসাধনই এখনকার দিনের সব প্রধান মনোযোগের বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। কিন্তু এ মিলন কে সাধন করিতে পারে।—বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য। যখন প্রথম বঙ্কিমবাবরে বঙ্গদর্শন একটি নতন প্রভাতের মতো আমাদের বঙ্গদেশে উদিত হইয়াছিল তখন দেশের সমস্ত শিক্ষিত অন্তজগৎ কেন এমন একটি অপব আনন্দে জাগ্রত হইয়া উঠিয়াছিল। য়রোপের দশনে বিজ্ঞানে ইতিহাসে যাহা পাওয়া যায় না, এমন কোনো নতন তত্ত্ব নতন আবিস্কার বঙ্গদশন কি প্রকাশ করিয়াছিল। তাহা নহে। বঙ্গদশানকে অবলম্বন করিয়া একটি প্রবল প্রতিভা আমাদের ইংরেজি শিক্ষা ও আমাদের অন্তঃ- ' করণের মধ্যবতী ব্যবধান ভাঙিয়া দিয়াছিল, বহুকাল পরে প্রাণের সহিত ভাবের একটি আনন্দসম্মিলন সংঘটন করিয়াছিল, প্রবাসীকে গহের মধ্যে আনিয়া আমাদের গহকে উৎসবে উজল করিয়া তুলিয়াছিল। এতদিন মথুরায় কৃষ্ণ রাজত্ব করিতেছিলেন, বিশ-প’চিশ বৎসর কাল বারীর সাধ্যসাধন করিয়াপ