পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ১১৭ ভাই কাঁদেন ভাই কাঁদেন অচিল ধরিয়ে। সেই-ষে ভাই কাপড় দিয়েছেন আলনা সাজিয়ে। বোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খন্রো ধরে। সেই-যে বোন— এইখানে, পাঠকদিগের নিকট অপরাধী হইবার আশঙ্কায় ছড়াটি শেষ করিবার পাবে দই-একটি কথা বলা আবশ্যক বোধ করি। যে ভগিনীটি আজ খাটের খরা ধরিয়া দাঁড়াইয়া দড়িাইয়া অজস্র আশ্রমোচন করিতেছেন, তাঁহার পবব্যবহার কোনো ভদ্রকন্যার অনুকরণীয় নহে। বোনে বোনে কলহ না হওয়াই ভালো, তথাপি সাধারণতঃ এরপ কলহ নিত্য ঘটিয়া থাকে। কিন্তু তাই বলিয়া কন্যাটির মুখে এমন ভাষা ব্যবহার হওয়া উচিত হয় না, যাহা আমি অদ্য ভদ্রসমাজে উচ্চারণ করিতে কুষ্ঠিত বোধ করিতেছি। তথাপি সে ছত্রটি একেবারেই বাদ দিতে পারিতেছি না। কারণ, তাহার মধ্যে কতকটা ইতর ভাষা আছে বটে কিন্তু তদপেক্ষা অনেক অধিক পরিমাণে বিশুদ্ধ করণেরস আছে। ভাষান্তরিত করিয়া বলিতে গেলে মোট কথা এই দাঁড়ায় যে, এই রোরুদমন বালিকাটি ইতিপবে কলহকালে তাঁহার সহােদরকে ভভূখ্যুকা বলিয়া অপমান করিয়াছেন। আমরা সেই গালিটিকে অপেক্ষাকৃত অনতিরাঢ় ভাষায় পরিবতন করিয়া নিম্নে ছন্দ পরণ করিয়া দিলাম। বোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খারো ধরে। সেই-যে বোন গাল দিয়েছেন স্বামীখাকী বলে। মা অলংকার দিয়াছেন, বাপ অৰ্থ দিয়াছেন, মাসি ভাত খাওয়াইয়াছেন, পিসি দুধ খাওয়াইয়াছেন, ভাই কাপড় কিনিয়া দিয়াছেন; আশা করিয়াছিলাম এমন নেহের পরিবারে ভগিনীও অনরপে কোনো প্রিয় কায করিয়া থাকিবেন। কিন্তু হঠাৎ শেষ ছয়টা পড়িয়াই বক্ষে একটা অদ্ভুত লাগে এবং চক্ষও ছলছল করিয়া উঠে। মা-বাপের পাবতন নেহব্যবহারের সহিত বিদায়কালীন রোদনের একটা সামঞ্জস্য আছে—তাহা প্রত্যাশিত। কিন্তু যে ভগিনী সর্বদা ঝগড়া করিত এবং অকথ্য গালি দিত, বিদায়কালে তাহার কান্না যেন সবচেয়ে সকরণ। হঠাৎ আজ বাহির হইয়া পড়িল যে, তাহার সমস্ত বন্দ্ৰকলহের মাঝখানে একটি সকোমল স্নেহ গোপনে সঞ্চিত হইতেছিল—সেই অলক্ষিত স্নেহ সহসা সতীর অনুশোচনার সহিত আজ তাহাকে বড়ো কঠিন আঘাত করিল। সে খাটের খরা ধরিয়া কাঁদিতে লাগিল। বাল্যকালে এই এক থাটে তাহারা দই ভগিনী শয়ন করিত, এই শয়নগহই তাহাদের সমস্ত কলহ-বিবাদ এবং সমস্ত খেলাধুলার লীলাক্ষেত্র ছিল। বিচ্ছেদের দিনে এই শয়ন-ঘরে