পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১৮ সংকলন আসিয়া, এই খাটের খরা ধরিয়া নিজনে গোপনে দাঁড়াইয়া ব্যথিত বালিকা যে ব্যাকুল অশ্রপাত করিয়াছিল, সেই গভীর স্নেহ-উৎসের নির্মল জলধারায় কলহভাষার সমস্ত কলঙ্ক প্রক্ষালিত হইয়া শত্র হইয়া গিয়াছে। এই-সমস্ত ছড়ার মধ্যে একটি ছত্রে একটি কথায় সখেদঃখের এক-একটি বড়ো বড়ো অধ্যায় উহ্য রহিয়া গিয়াছে। নিম্নে যে ছড়াটি উদ্ধত করিতেছি তাহার দই ছত্রে আদ্যকাল হইতে অদ্যকাল পর্যন্ত বঙ্গীয় জননীর কতদিনের শোকের ইতিহাস ব্যক্ত হইয়াছে। দোল দোল দলনি। রাঙা মাথায় চিরনি। বর আসবে এখনি । নিয়ে যাবে তখনি। কে’দে কেন মরো। আপনি বঝিয়া দেখো কার ঘর করো। একটি শিশুকন্যাকেও দোল দিতে দিতে দর ভবিষ্যৎবতী বিচ্ছেদসম্ভাবনা সাতই মনে উদয় হয় এবং মায়ের চক্ষে জল আসে। তখন একমাত্র সান্ত্বনার কথা এই যে, এমনি চিরদিন হইয়া আসিতেছে। তুমিও একদিন মাকে কাঁদাইয়া পরের ঘরে চলিয়া আসিয়াছিলে—আজিকার সংসার হইতে সেদিনকার নিদারণ বিচ্ছেদের সেই ক্ষতবেদনা সম্পণে আরোগ্য হইয়া গিয়াছে—তোমার মেয়েও যথাকালে তোমাকে ছাড়িয়া চলিয়া যাইবে এবং সে দুঃখও বিশ্বজগতে অধিক দিন পথায়ী হইবে না। পটার বশরবাড়ি-প্রয়াণের অনেক ছবি এবং অনেক প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। । সে কথাটা সবাদাই মনে লাগিয়া আছে। পট যাবে বশরেবাড়ি সঙ্গে যাবে কে। ঘরে আছে কুনো বেড়াল কোমর বেধেছে। আম-কাঁঠালের বাগান দেব ছায়ায় ছায়ায় যেতে। চার মিনসে কাহার দেব পালকি বহাতে ॥ সর ধানের চিড়ে দেব পথে জল খেতে। চার মাগী দাসী দেব পায়ে তেল দিতে। উড়কি ধানের মড়েকি দেব শাশুড়ি ভুলাতে ॥ শেষ ছন্ন দেখিলেই বিদিত হওয়া যায়, শাশুড়ি কিসে ভুলিবে এই পরম দচিন্তা তখনো সম্পণে ছিল। উক্ত উড়কিধানের মড়কি বারাই সেই দুঃসাধ্য ব্যাপার সাধন করা যাইত এ কথা যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়, তবে নিঃসন্দেহ