পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ఫిఫిషి খনকার অনেক কন্যার মাতা সেই সত্যযুগের জন্য গভীর দীর্ঘনিশ্বাসসহকারে আক্ষেপ করিবেন। এখনকার দিনে কন্যার শাশুড়িকে যে কী উপায়ে ভুলাইতে হয় কন্যার পিতা তাহা ইহজন্মেও ভুলিতে পারেন না। কন্যার সহিত বিচ্ছেদ একমাত্র শোকের কারণ নহে, অযোগ্য পাত্রের সহিত বিবাহ, সেও একটা বিষম শেল। অথচ অনেক সময় জানিয়া-শুনিয়া মা-বাপ এবং আত্মীয়েরা বাথ অথবা ধন অথবা কুলের প্রতি দষ্টি করিয়া নিরপোয় বালিকাকে অপাত্রে উৎসগ করিয়া থাকেন। সেই অন্যায়ের বেদনা সমাজ মাঝে মাঝে প্রকাশ করে। ছড়ায় তাহার পরিচয় আছে। কিন্তু পাঠকদের এ কথা মনে রাখিতে হইবে যে, ছড়ার সকল কথাই ভাঙাচোরা, হাসিতে কান্নাতে অদভূতে মেশানো। ডালিম গাছে পরাভু নাচে। তাকধমাধ্যম বান্দি বাজে ॥ আই গো চিনতে পারো। গোটা-দই অন্ন বাড়ো ৷ অন্নপ্রণা দধের সর। কাল যাব গো পরের ঘর। পরের বেটা মারে চড়। কানতে কানতে খড়োর ঘর। খড়ো দিলে বড়ো বর৷ হেই খড়ো, তোর পায়ে ধরি। থয়ে আয় গা মায়ের বাড়ি ॥ মায়ে দিল সর শাঁখা, বাপে দিল শাড়ি। ভাই দিল হড়কো ঠেঙা, চল শ্বশুরবাড়ি। তখন ইংরেজের আইন ছিল না। অথাৎ দাম্পত্য অধিকারের পনেঃপ্রতিষ্ঠার ভার পাহারাওয়ালার হাতে ছিল না। সতরাং আত্মীয়গণকে উদ্যোগী হইয়া সেই কাজটা যথাসাধ্য সহজে এবং সংক্ষেপে সাধন করিতে হইত। কিন্তু হাল নিয়মেই হউক আর সাবেক নিয়মেই হউক, নিতান্ত পাশব বলের বারা অসহায়া কন্যাকে অযোগ্যের সহিত যোজনা—এতবড়ো অস্বাভাবিক বর্বর নশংসতা জগতে আর আছে কি না সন্দেহ। বাপ-মায়ের অপরাধ সমাজ বিস্মত হইয়া আসে, কিন্তু বড়ো বরটা তাহার চক্ষশীল। সমাজ সতীব্র বিদুপের বারা তাহার উপরেই মনের সমস্ত আক্লোশ মিটাইতে থাকে।