পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২O সংকলন তালগাছ কাটম বোসের বাটম গৌরী এল ঝি। তোর কপালে বড়ো বর আমি করব কী৷ টঙ্কা ভেঙে শঙ্খা দিলাম, কানে মদন কড়ি। বিয়ের বেলা দেখে এলম বড়ো চাপদাড়ি ॥ চোখ খাও গো বাপ মা, চোখ খাও গো খড়ো। এমন বরকে বিয়ে দিয়েছিলে তামাক-খেগো বড়ো। বড়োর হাকো গেল ভেসে– বড়ো মরে কেশে। নেড়ে চেড়ে দেখি বড়ো মরে রয়েছে। ফেন গালবার সময় বড়ো নেচে উঠেছে। বন্ধের এমন লাঞ্ছনা আর কী হইতে পারে। এক্ষণে বঙ্গগহের যিনি সম্রাট—যিনি বয়সে ক্ষুদ্রতম অথচ প্রতাপে প্রবলতম সেই মহামহিম খোকা-খনকু বা খড়কুনের কথাটা বলা বাকি আছে। প্রাচীন ঋগবেদ ইন্দ্র চন্দ্র বরণের স্তবগান উপলক্ষে রচিত—আর, মাতৃহৃদয়ের যুগলদেবতা খোকা-খনকুর তব হইতে ছড়ার উৎপত্তি। প্রাচীনতা হিসাবে কোনোটাই নান নহে। কারণ, ছড়ার পরাতনত্ব ঐতিহাসিক পরাতনত্ব নহে, তাহা সহজেই পরাতন। তাহা আপনার আদিম সরলতাগণে মানব-রচনার সব প্রথম। সে এই উনবিংশ শতাব্দীর বাৎপলেশশন্য তাঁর মধ্যাহ্ন-রৌদ্রের মধ্যেও মানবহৃদয়ের নবীন অরণোদয়রাগ রক্ষা করিয়া আছে। এই চিরপুরাতন নব-বেদের মধ্যে যে স্নেহগাথা, যে শিশসস্তবগলি রহিয়াছে তাহার বৈচিত্র্য সৌন্দয এবং আনন্দ-উচ্ছাসের আর সীমা নাই। মধেহদয়া বন্দনাকারিণীগণ নব নব নেহের ছাঁচে ঢালিয়া এক খনকু-দেবতার কত মতিই প্রতিষ্ঠা করিয়াছে—সে কখনো পাখি, কখনো চাঁদ, কখনো মানিক, কখনো ফলের বন। ধনকে নিয়ে বনকে যাব, সেখানে খাব কী। নিরলে বসিয়া চাঁদের মখে নিরখি ॥ ভালোবাসার মতো এমন সন্টিছাড়া পদাৰ্থ আর কিছুই নাই। সে আরম্ভকাল হইতে এই সন্টির আদি অন্তে অভ্যন্তরে ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছে, তথাপি সন্টির নিয়ম সমস্তই লঙ্ঘন করিতে চায়। সে যেন সটির লৌহপিঞ্জরের মধ্যে আকাশের পাখি। শতসহস্ৰ বার প্রতিষেধ প্রতিরোধ প্রতিবাদ প্রতিঘাত পাইয়াও তাহার এ বিশ্বাস কিছুতেই গেল না যে, সে অনায়াসেই