পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ১২১ শুনিয়ম না মানিয়া চলিতে পারে। সে মনে মনে জানে, আমি উড়িতে পারি, এইজন্যই সে লোহার শলাকাগলোকে বারংবার ভুলিয়া যায়। ধনকে লইয়া বনকে যাইবার কোনো আবশ্যক নাই, ঘরে থাকলে সকল পক্ষেই সংবিধা। অবশ্য বনে অনেকটা নিরালা পাওয়া যায় সন্দেহ নাই, কিন্তু তাহা ছাড়া আর বিশেষ কিছল পাওয়া যায় না। বিশেষত নিজেই স্বীকার করিতেছে সেখানে উপযন্ত পরিমাণে আহাৰ্য দ্রব্যের অসম্ভাব ঘটিতে পারে। কিন্তু তব, ভালোবাসা জোর করিয়া বলে, তোমরা কি মনে কর আমি পারি না। তাহার এই অসংকোচ পধাবাকা শনিয়া আমাদের মতো প্রবীণবন্ধি বিবেচক লোকেরও হঠাৎ বধিভ্রংশ হইয়া যায়; আমরা বলি, তাও তো বটে, কেনই বা না পরিবে। যদি কোনো সংকীর্ণহাদয় বস্তুজগৎবন্ধ সংশয়ী জিজ্ঞাসা করে খাইবে কী, সে তৎক্ষণাৎ অম্লানমন্খে উত্তর দেয়, নিরলে বসিয়া চাঁদের মখে নিরখি । শনিবামাত্র আমরা মনে করি, ঠিক সংগত উত্তরটি পাওয়া গেল। অন্যের মখে যাহা ঘোরতর স্বতঃসিদ্ধ মিথ্যা, যাহা উন্মাদের অত্যুস্তি, ভালোবাসার মুখে তাহা অবিসবাদিত প্রামাণিক কথা। ভালোবাসার আর-একটি গণ এই যে, সে এককে আর করিয়া দেয়, ভিন্ন পদার্থের প্রভেদ-সীমা মানিতে চাহে না। পাঠক পাবেই তাহার উদাহরণ পাইয়াছেন—দেখিয়াছেন একটা ছড়ায় কিছলমাত্র ভূমিকা না করিয়া খোকাকে অনায়াসেই পক্ষীজাতীয়ের সামিল করিয়া দেওয়া হইয়াছে, কোনো প্রাণীবিজ্ঞানবিং তাহাতে আপত্তি করিতে আসেন না। আবার পরমহতেই খোকাকে যখন আকাশের চন্দ্রের অভেদ আত্মীয়রপে বর্ণনা করা হয় তখন কোনো জ্যোতিবিৎ তাহার প্রতিবাদ করিতে সাহস করেন না। কিন্তু সবাপেক্ষা ভালোবাসার স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পায় যখন সে আড়ম্বরপবক যুক্তির অবতারণা করিয়া ঠিক শেষ মহেতে তাহাকে অবজ্ঞাভরে পদাঘাত করিয়া ভাঙিয়া ফেলে। নিম্নে তাহার একটি দন্টান্ত দেওয়া যাইতেছে। চাঁদ কোথা পাব বাছা, জাদুমণি। মাটির চাঁদ নয় গড়ে দেব, গাছের চাঁদ নয় পেড়ে দেব, তোর মতন চাঁদ কোথায় পাব। তুই চাঁদের শিরোমণি। ঘমো রে আমার খোকামণি। চাঁদ আয়ত্তগম্য নহে, চাঁদ মাটির গড়া নহে, গাছের ফল নহে—এ-সমস্তই বিশখে যুক্তি, অকাট্য এবং নতন—ইহার কোথাও কোনো ছিদ্র নাই। কিন্তু