পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S २२ সংকলন এতদর পর্যন্ত আসিয়া অবশেষে যদি খোকাকে বলিতে হয় যে, তুমিই চাঁদ এবং তুমি সকল চন্দ্রের শ্রেষ্ঠ, তবে তো মাটির চাঁদও সম্ভব, গাছের চাঁদও আশ্চর্য নহে। তবে গোড়ায় যক্তির কথা পাড়িবার প্রয়োজন কী ছিল। এইখানে বোধ করি একটি কথা বলা নিতান্ত অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। সীলোকদের মধ্যে যে বহল পরিমাণে যুক্তিহীনতা দেখা যায় তাহা বন্ধিহীনতার পরিচায়ক নহে। তাঁহারা যে জগতে থাকেন সেখানে ভালোবাসারই একাধিপত্য। ভালোবাসা সবগের মানুষ। সে বলে, আমার অপেক্ষা আরকিছ কেন প্রধান হইবে। আমি ইচ্ছা করিতেছি বলিয়াই বিশ্ববনিয়মের সমস্ত বাধা কেন অপসারিত হইবে না। সে সবগ্ন দেখিতেছে এখনো সে সবগেই আছে। কিন্তু হায়, মত পথিবীতে সবগের মতো ঘোরতর অযৌক্তিক পদার্থ আর কী হইতে পারে। তথাপি পথিবীতে যেটুকু বগ আছে, সে কেবল রমণীতে বালকে প্রেমিকে ভাবকে মিলিয়া সমস্ত যক্তি এবং নিয়মের প্রতিকল স্লোতেও ধরাতলে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। পথিবী যে পথিবীই, এ কথা তাহারা অনেক সময় ভুলিয়া যায় বলিয়াই সেই ভ্রমব্রুমেই পথিবীতে দেবলোক সখলিত হইয়া পড়ে। ভালোবাসা এক দিকে যেমন প্রভেদ-সীমা লোপ করিয়া চাঁদে ফলে খোকায় পাখিতে এক মহতে একাকার করিয়া দিতে পারে, তেমনি আবার আর-এক দিকে যেখানে সীমা নাই সেখানে সীমা টানিয়া দেয়, যেখানে আকার নাই সেখানে আকার গড়িয়া বসে। এ পর্যন্ত কোনো প্রাণিতত্ত্ববিৎ পণ্ডিত ঘামকে স্তন্যপায়ী অথবা অন্য কোনো জীবশ্রেণীতে বিভক্ত করেন নাই। কিন্তু ঘাম নাকি খোকার চোখে আসিয়া থাকে, এইজন্য তাহার উপরে সবদাই ভালোবাসার সজেনহস্ত পড়িয়া সেও কখন একটা মানুষ হইয়া উঠিয়াছে। হাটের ঘুম ঘাটের ঘমে পথে পথে ফেরে। চার কড়া দিয়ে কিনলেম ঘমে, মণির চোখে আয় রে৷ রাত্রি অধিক হইয়াছে, এখন তো আর হাটে ঘাটে লোক নাই। সেইজন্য খাজিয়া বেড়াইতেছে। বোধ করি সেইজন্যই তাহাকে এত সলভ মল্যে পাওয়া গেল। নতুবা সমস্ত রাত্রির পক্ষে চার কড়া কড়ি এখনকার কালের মজরির তুলনায় নিতান্তই যৎসামান্য। শনা যায় গ্রীক কবিগণ এবং মাইকেল মধ্যসদন দত্তও ঘমকে স্বতন্ত্র মানবীরপে বর্ণনা করিয়াছেন; কিন্তু নতাকে একটা নিদিষ্ট বস্তুরপে গণ্য