পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষার হেরফের Q তাঁহার সদর সাক্ষাৎলাভ হইত, বঙ্গদশন দৌত্য করিয়া তাঁহাকে আমাদের বন্দাবনধামে আনিয়া দিল। এখন আমাদের গহে, আমাদের সমাজে, আমাদের অন্তরে একটা নতন জ্যোতি বিকীর্ণ হইল। আমরা আমাদের ঘরের মেয়েকে স্যমুখী কমলমণি -রপে দেখিলাম, চন্দ্রশেখর এবং প্রতাপ বাঙালি পর্ষকে একটা উচ্চতর ভাবলোকে প্রতিষ্ঠিত করিয়া দিল—আমাদের প্রতিদিনের ক্ষদ্র জীবনের উপরে একটি মহিমরশিম নিপতিত হইল। যে দিক হইতে যেমন করিয়াই দেখা যায়, আমাদের ভাব ভাষা এবং জীবনের মধ্যকার সামঞ্জস্য দর হইয়া গেছে। মানুষ বিচ্ছিন্ন হইয়া নিৰ্ম্মফল হইতেছে, আপনার মধ্যে একটি অখণ্ড ঐক্যলাভ করিয়া বলিষ্ঠ হইয়া দাঁড়াইতে পারিতেছে না, যখন যেটি আবশ্যক তখন সেটি হাতের কাছে পাইতেছে না। একটি গল্প আছে: একজন দরিদ্র সমস্ত শীতকালে অলপ অলপ ভিক্ষা সঞ্চয় করিয়া যখন শীতবসর কিনিতে সক্ষম হইত তখন গ্রীষ্ম আসিয়া পড়িত, আবার সমস্ত গ্রীষ্মকাল চেষ্টা করিয়া যখন লঘ্যবসা লাভ করিত তখন অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি ; দেবতা যখন তাহার দৈন্য দেখিয়া দয়াদ্র হইয়া বর দিতে চাহিলেন তখন সে কহিল, আমি আর কিছু চাহি না, আমার এই হেরফের ঘচাইয়া দাও। আমি যে সমস্ত জীবন ধরিয়া .গ্রীমের সময় শীতবসন্ত্র এবং শীতের সময় গ্রীষ্মবস্ত্র লাভ করি এইটে যদি একটা সংশোধন করিয়া দাও তাহা হইলেই আমার জীবন সাথক হয়। আমাদেরও সেই প্রার্থনা। আমাদের হেরফের ঘচিলেই আমরা চরিতার্থ হই। শীতের সহিত শীতবসর গ্রীমের সহিত গ্রীষ্মবসর কেবল একত্র করিতে পারিতেছি না বলিয়াই আমাদের এত দৈন্য, নহিলে আছে সকলই। এখন আমরা বিধাতার নিকট এই বর চাই, আমাদের ক্ষুধার সহিত অম, শীতের সহিত বস্ত্র, ভাবের সহিত ভাষা, শিক্ষার সহিত জীবন কেবল একত্র করিয়া माG । आभद्रा श्राझि cयन পানীমে মীন পিয়াসী শনত শনত লাগে হাসি। আমাদের পানিও আছে পিয়াসও আছে, দেখিয়া পথিবীর লোক হাসিতেছে এবং আমাদের চক্ষে অশ্র আসিতেছে, কেবল আমরা পান করিতে পারিতেছি না | পৌষ ১২৯১