পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছেলে-ভুলানো ছড়া ১২৫ খোকা যাবে বেড় করতে তেলিমাগীদের পাড়া। তেলিমাগীরা মুখ করেছে কেন রে মাখনচোরা ॥ ভড়ি ভেঙেছে, ননি খেয়েছে, আর কি দেখা পাব। কদমতলায় দেখা পেলে বাঁশি কেড়ে নেব। হঠাৎ তেলিমাগীদের পাড়ায় ক্ষদ্র খোকাবাব কখন যে বন্দাবনের বাঁশি আনিয়া ফেলিয়াছেন তাহা, সে বাঁশি যাহাদের কানের ভিতর দিয়া মরমে প্রবেশ করিয়াছে তাহারাই বুঝিতে পারবে। আমি ছড়াকে মেঘের সহিত তুলনা করিয়াছি। উভয়েই পরিবতনশীল, বিবিধ বণে রঞ্জিত, বায়স্রোতে যদচ্ছাভাসমান। দেখিয়া মনে হয় নিরর্থক। ছড়াও কলাবিচার-শাস্ত্রের বাহির, মেঘবিজ্ঞানও শাসত্রনিয়মের মধ্যে ভালো করিয়া ধরা দেয় নাই। অথচ জড়জগতে এবং মানবজগতে এই দলই উচ্ছৃঙ্খল অদ্ভুত পদার্থ চিরকাল মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করিয়া আসিতেছে। মেঘ বারি ধারায় নামিয়া আসিয়া শিশু-শস্যকে প্রাণদান করিতেছে এবং ছড়াগুলিও স্নেহরসে বিগলিত হইয়া কলপনাবটিতে শিশু-হৃদয়কে উবর করিয়া তুলিতেছে। লঘকায় বন্ধনহীন মেঘ আপন লঘনত্ব এবং বন্ধনহীনতা -গণেই জগদব্যাপী হিতসাধনে সবভাবতই উপযোগী হইয়া উঠিয়াছে; এবং ছড়াগুলিও ভারহীনতা অথবন্ধনশন্যতা এবং চিত্রবৈচিত্র্য -বশতই চিরকাল ধরিয়া শিশুদের মনোরঞ্জন করিয়া আসিতেছে—শিশু-মনোবিজ্ঞানের কোনো সত্র সম্মুখে ধরিয়া রচিত হয় নাই। আশ্বিন-কাতিক ১৩০১