পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসিংহ ১২৯ এই অকস্মাৎ মৃত্যুর দোলায় সকলেই সজাগ হইয়া উঠিয়াছে এবং আপনার অন্তরবাসী মহাপ্রাণীর আলিঙ্গন অনুভব করিতেছে। কোথায় ছিল ক্ষুদ্র রপনগরের অন্তঃপরপ্রান্তে একটি বালিকা—কালক্ৰমে সে কোন ক্ষুদ্র রাজপত নপতির শত রাজ্ঞীর মধ্যে অন্যতমা হইয়া অসম্ভব-চিত্রিত লতার উপরে অসম্ভব-চিত্রিত পক্ষীখচিত শেবতপ্রস্তররচিত কক্ষপ্রাচীর-মধ্যে পর গালিচায় বসিয়া রঙ্গসঙ্গিনীগণের হাসি-টিটকারি-পরিবত হইয়া আলবোলায় তামাকু টনিত, সেই পাপপ্রতিমা স্কুমার সন্দর বালিকাটাকুর মধ্যে কী এক দবার দধর্ষ প্রাণশক্তি জাগ্রত হইয়া উঠিল—সে আজ বধিমন্ত বন্যার একটি গবোধত প্রবল তরঙ্গের ন্যায় দিল্লির সিংহাসনে গিয়া আঘাত করিল। কোথায় ছিল মোগল রাজপ্রাসাদের রত্নখচিত রঙমহলে সন্দরী জেবউন্নিসা— সে সখের উপর সুখ, বিলাসের উপর বিলাস বিকীর্ণ করিয়া আপনার অন্তরাত্মাকে আরামের পতপরাশির মধ্যে আচ্ছন্ন অচেতন করিয়া রাখিয়াছিল— সে দিনের সেই মৃত্যুদোলায় হঠাৎ তাহার অন্তরশয্যা হইতে জাগ্রত হইয়া তাহাকে কোন মহাপ্রাণী এমন নিষ্ঠর কঠিন বাহবেস্টনে পীড়ন করিয়া ধরিল, সম্রাটদহিতাকে কে সেই সবরগামী দঃখের হতে সমপণ করিল যে দুঃখ প্রাসাদের রাজরাজেশবরীকেও কুটিরবাসিনী কৃষককন্যার সহিত এক বেদনাশয্যায় শয়ান করাইয়া দেয়। দস্য মানিকলাল হইল বীর, রপেম ধ মোবারক মৃত্যুসাগরে আত্মবিসর্জন করিল, গাহপিঞ্জরের নিমলিকুমারী বিপ্লবের বহিরাকাশে উড়িয়া আসিল, এবং নত্যকুশলা পতঙ্গচপলা দরিয়া সহসা অট্টহাস্যে মন্তকেশে কালনতো আসিয়া যোগ দিল। অধ্যরাত্রির এই বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর জাগরণের মধ্যে কি মধ্যাহ্নকুলায়বাসী প্রণয়ের করণ কপোতকজন প্রত্যাশা করা যায়। রাজসিংহ দ্বিতীয় বিষবৃক্ষ' হয় নাই বলিয়া আক্ষেপ করা সাঙ্গে না। বিষবক্ষের সতীব্র সংখদঃখের পাকগলা প্রথম হইতেই পাঠকের মনে কাটিয়া কাটিয়া বসিতেছিল। অবশেষে শেষ কয়টা পাকে হতভাগ্য পাঠকের একেবারে কন্ঠরন্ধে হইয়া আসে। রাজসিংহের প্রথম দিকের পরিচ্ছেদগলি মনের উপর সেরাপ রক্তবর্ণ সুগভীর চিহ্ন দিয়া যায় না, তাহার কারণ রাজসিংহ স্বতন্ত্রজাতীয় উপন্যাস। প্রবন্ধ লিখিতে বসিয়াছি বলিয়াই মিথ্যা কথা বলিবার আবশ্যক দেখি না। কাল্পনিক পাঠক খাড়া করিয়া তাহদের প্রতি দোষারোপ করা আমার উচিত হয় না। আসল কথা এই যে, রাজসিংহ পড়া আরম্ভ করিয়া আমারই মনে প্রথম-প্রথম খটকা লাগিতেছিল। আমি ভাবিতেছিলাম, বড়োই বেশি