পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ఏరి ఫి সংকলন ইতিহাসের মহাকোলাহলের মধ্যে এই নবজাগ্রত হতভাগিনী নারী বিদীর্ণ প্রায় হদয় মাঝে মাঝে ফলিয়া ফলিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া উঠিয় রাজসিংহের পরিণাম-অংশে বড়ো একটা রোমাঞ্চকর সবিশাল কর্ণা ও ব্যাকুলতা বিস্তার করিয়া দিয়াছে। দ্যযোগের রাত্রে এক দিকে মোগলের অভ্ৰভেদী পাষাণপ্রাসাদ ভাঙিয়া ভাঙিয়া পড়িতেছে, আর-এক দিকে সব, ত্যাগিনী রমণীর অব্যন্ত কুন্দন ফাটিয়া ফাটিয়া উঠিতেছে; সেই ব্যহং ব্যাপারের মধ্যে কে তাহার প্রতি দকপাত করিবে—কেবল যিনি অন্ধকার রাত্রে অতন্দ্র থাকিয়া সমস্ত ইতিহাসপযায়কে নীরবে নিয়মিত করিতেছেন, তিনি এই ধলিলন্ঠ্যমান ক্ষুদ্র মানবীকেও অনিমেষ লোচনে নিরীক্ষণ করিতেছিলেন। এই ইতিহাস এবং উপন্যাসকে একসঙ্গে চালাইতে গিয়া উভয়কেই এক রাশের বারা বধিয়া সংযত করিতে হইয়াছে। ইতিহাসের ঘটনাবহুলতা এবং উপন্যাসের হদয়বিশ্লেষণ উভয়কেই কিছু খব করিতে হইয়াছে—কেহ কাহারো অগ্রবতী না হয় এ বিষয়ে গ্রন্থকারের বিশেষ লক্ষ্য ছিল দেখা যায়। লেখক যদি উপন্যাসের পারগণের সুখদুঃখ এবং হাদয়ের লীলা বিস্তার করিয়া দেখাইতে বসিতেন তবে ইতিহাসের গতি আচল হইয়া পড়িত। তিনি একটি প্রবল স্রোতস্বিনীর মধ্যে দটি-একটি নৌকা ভাসাইয়া দিয়া নদীর স্রোত এবং নৌকা উভয়কেই একসঙ্গে দেখাইতে চাহিয়াছেন। এইজন্য চিত্রে নৌকার আয়তন অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হইয়াছে, তাহার প্রত্যেক সক্ষমানসক্ষম অংশ দণ্টিগোচর হইতেছে না। চিত্রকর যদি নৌকার ভিতরের ব্যাপারটাই বেশি করিয়া দেখাইতে চাহিতেন তবে নদীর অধিকাংশই তাঁহার চিত্ৰপট হইতে বাদ পড়িত। হইতে পারে কোনো কোনো অতিকৌতুহলী পাঠক ঐ নৌকার অভ্যন্তরভাগ দেখিবার জন্য অতিমাত্র ব্যগ্র এবং সেইজন্য মনঃক্ষোভে লেখককে তাহারা নিন্দা করিবেন। কিন্তু সেরাপ ব্যথা চপলতা পরিহার করিয়া দেখা কতব্য, লেখক গ্রন্থবিশেষে কী করিতে চাহিয়াছেন এবং তাহাতে কতদর কৃতকার্য হইয়াছেন। পাব হইতে একটি অমলেক প্রত্যাশা ফাঁদিয়া বসিয়া তাহা পণ হইল না বলিয়া লেখকের প্রতি দোষারোপ করা বিবেচনাসংগত নহে। গ্রন্থপাঠারম্ভে আমি নিজে এই অপরাধ করিবার উপক্ৰম করিয়াছিলাম বলিয়াই এ কথাটা বলিতে হইল। চৈত্র ১৩oo