পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○○8 সংকলন আমি কহিলাম, আমার কি এত নেহ আছে যে, তুমি বাস্তবিক যতখাঞ্জি আমি তোমাকে ততখানি দেখিতে পাইব । একটি মানুষের সমস্ত কে ইয়ত্তা করিতে পারে, ঈশ্বরের মতো কাহার স্নেহ। ক্ষিতি তো একেবারে অস্থির হইয়া উঠিল, কহিল, এ আবার তুমি কী কথা তুলিলে। স্রোতস্বিনী তোমাকে এক ভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি আর-এক ভাবে তাহার উত্তর দিলে। 叠 তাহারই মধ্যে আমরা অনন্তের পরিচয় পাই। এমনকি, জীবের মধ্যে অনন্তকে অনুভব করারই অন্য নাম ভালোবাসা। প্রকৃতির মধ্যে অনুভব করার নাম সৌন্দযাসভোগ। সমস্ত বৈষ্ণবধমের মধ্যে এই গভীর তত্ত্বটি নিহিত রহিয়াছে।’ বৈষ্ণবধর্ম পথিবীর সমস্ত প্ৰেম-সম্পকের মধ্যে ঈশ্বরকে অনুভব করিতে চেষ্টা করিয়াছে। যখন দেখিয়াছে, মা আপনার সন্তানের মধ্যে আনন্দের আর অবধি পায় না, সমস্ত হৃদয়খানি মহেতে মহোতে ভাঁজে ভাঁজে খলিয়া ঐ ক্ষুদ্র মানবাকুরটিকে সম্পণে বেষ্টন করিয়া শেষ করিতে পারে না, তখন আপনার সন্তানের মধ্যে আপনার ঈশ্বরকে উপাসনা করিয়াছে। যখন দেখিয়াছে, প্রভুর জন্য দাস আপনার প্রাণ দেয়, বন্ধর জন্য বন্ধ আপনার সবাথ বিসজন করে, প্রিয়তম এবং প্রিয়তমা পরস্পরের নিকটে আপনার সমস্ত আত্মাকে সমপণ করিবার জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠে, তখন এই-সমস্ত প্রেমের মধ্যে একটা সীমাতীত লোকাতীত ঐশ্বয অনুভব করিয়াছে।’ সমীর এতক্ষণ আমার খাতাটি পড়িতেছিল, শেষ করিয়া কহিল, এ কী করিয়াছ। তোমার ডায়ারির এই লোকগলা কি মানুষ, না যথার্থই ভূত ? ' ইহারা দেখিতেছি, কেবল বড়ো বড়ো ভালো ভালো কথাই বলে, কিন্তু ইহাদের আকার-আয়তন কোথায় গেল।’ আমি বিষন্নমখে কহিলাম, কেন বলো দেখি। সমীর কহিল, ‘তুমি মনে করিয়াছ, আমের অপেক্ষা আমসত্ত্ব ভালো— তাহাতে সমস্ত অীিঠ অশি আবরণ এবং জলীয় অংশ পরিহার করা যায়— কিন্তু তাহার সেই লোভন গন্ধ, সেই শোভন আকার কোথায়। তুমি কেবল আমার সারটুকু লোককে দিবে, আমার মানুষটকু কোথায় গেল। আমার বেবাক বাজে কথাগুলো তুমি বাজেয়াপ্ত করিয়া যে একটি নিরেট মতি দাঁড় করাইয়াছ, তাহাতে দন্তমফট করা দুঃসাধ্য। आशि कवण रेकत्रिsि. চিন্তাশীল লোকের কাছে বাহবা পাইতে চাহি না, আমি সাধারণ লোকের