পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনুষ্য ১৩৫ ধ্যৈ বাঁচিয়া থাকিতে চাহি।" আমি কহিলাম, সেজন্য কী করিতে হইবে।” সমীর কহিল, সে আমি কী জানি। আমি কেবল আপত্তি জানাইয়া রাখিলাম। আমার যেমন সার আছে তেমনি আমার বাদ আছে; সারাংশ মানষের পক্ষে আবশ্যক হইতে পারে, কিন্তু বাদ মানুষের নিকট প্রিয়। আমাকে উপলক্ষ করিয়া মানুষ কতকগুলো মত কিবা তক আহরণ করিবে এমন ইচ্ছা করি না, আমি চাই মানুষ আমাকে আপনার লোক বলিয়া চিনিয়া লইবে। এই ভ্রমসংকুল সাধের মানবজন্ম ত্যাগ করিয়া একটা মাসিকপত্রের নিতুল প্রবন্ধ -আকারে জন্মগ্রহণ করিতে আমার প্রবত্তি হয় না। আমি পাশনিক তত্ত্ব নই, আমি ছাপার বই নই, আমি তকের সযক্তি অথবা কুয়ান্তি নই, আমার বন্ধরো আমার আত্মীয়েরা আমাকে সবাদা যাহা বলিয়া জানেন আমি তাহাই। সমীর বলিয়া যাইতে লাগিল, তরুণ বয়সে সংসারে মানুষ চোখে পড়িত না; মনে হইত, যথার্থ মানুষগলা উপন্যাস নাটক এবং মহাকাব্যেই আশ্রয় লইয়াছে, সংসারে কেবল একটিমাত্র অবশিষ্ট আছে। এখন দেখিতে পাই লোকালয়ে মানুষ ঢের আছে, কিন্তু "ভোলা মন, ও ভোলা মন, মানুষ কেন চিনলি না।” ভোলা মন, এই সংসারের মাঝখানে একবার প্রবেশ করিয়া দেখ, এই মানবহীদয়ের ভিড়ের মধ্যে। সভাপথলে যাহারা কথা কহিতে পারে না সেখানে তাহারা কথা কহিবে, লোকসমাজে যাহারা এক প্রান্তে উপেক্ষিত হয় সেখানে তাহাদের এক নতন গৌরব প্রকাশিত হইবে-পথিবীতে যাহাদিগকে অনাবশ্যক বোধ হয় সেখানে দেখিব, তাহাদেরই সরল প্রেম, অবিশ্রাম সেবা, "আত্মবিস্মত আত্মবিসর্জনের উপরে পথিবী প্রতিষ্ঠিত হইয়া রহিয়াছে। ভীষ্ম দ্ৰোণ ভীমাজন মহাকাব্যের নায়ক, কিন্তু আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুর ক্ষেত্রের মধ্যে করিবে এবং প্রকাশ করিবে।’ আমি কহিলাম, না করিলে কী এমন আসে যায়। মানুষ পরপরকে না যদি চিনিবে তবে পরস্পরকে এত ভালোবাসে কী করিয়া। একটি ববক তাহার জন্মস্থান ও আত্মীয়বগ হইতে বহন্দরে দ-দশ টাকা বেতনে ঠিকা মহেনরিগিরি করিত। আমি তাহার প্রভু ছিলাম, কিন্তু প্রায় তাহার অস্তিত্বও অবগত ছিলাম না—সে এত সামান্য লোক ছিল। একদিন রাত্রে সহসা তাহার *णाॐ श्ल। আমার শয়নগহ হইতে শনিতে পাইলাম সে পিসিমা' পিসিমা' করিয়া কাতরস্বরে কাঁদিতেছে। তখন সহসা তাহার গৌরবহীন