পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ञान এই-যে মধ্যাহ্নকালে নদীর ধারে পাড়াগায়ের একটি একতলা ঘরে বসিয়া আছি; টিকটিকি ঘরের কোণে টিকটিক করিতেছে; দেয়ালে পাখা টানিবার ছিদ্রের মধ্যে একজোড়া চড়াই পাখি বাসা তৈরি করিবার অভিপ্রায়ে বাহির হইতে কুটা সংগ্ৰহ করিয়া কিচমিচ শব্দে মহাব্যস্তভাবে ক্ৰমাগত যাতায়াত করিতেছে; নদীর মধ্যে নৌকা ভাসিয়া চলিয়াছে, উচ্চতটের অন্তরালে নীলাকাশে তাহাদের মাতুল এবং সফাঁত পালের কিয়দংশ দেখা যাইতেছে; বাতাসটি স্নিগ্ধ, আকাশটি পরিকার, পরপারের অতিদীর তীররেখা হইতে আর আমার বারান্দার সম্মুখবতী বেড়া-দেওয়া ছোটো বাগানটি পর্যন্ত উজনল রৌদ্রে একখন্ড ছবির মতো দেখাইতেছে—এই তো বেশ আছি। মায়ের কোলের মধ্যে সন্তান যেমন একটি উত্তাপ, একটি আরাম, একটি স্নেহ পায়, তেমনি এই পরাতন প্রকৃতির কোল ঘোষিয়া বসিয়া একটি জীবনপর্ণ আদরপণ মন্দ উত্তাপ চতুদিক হইতে আমার সবাঙ্গে প্রবেশ করিতেছে। তবে এইভাবে থাকিয়া গেলে ক্ষতি কী। কাগজ-কলম লইয়া বসিবার জন্য কে তোমাকে খোঁচাইতেছিল। কোন বিষয়ে তোমার কী মত, কিসে তোমার সম্মতি বা অসম্মতি, সে কথা লইয়া হঠাৎ ধুমধাম করিয়া কোমর বধিয়া বসিবার কী দরকার ছিল। ঐ দেখো, মাঠের মাঝখানে, কোথাও কিছু নাই, একটা ঘণো বাতাস খানিকটা ধলা এবং শুকনো পাতার ওড়না উড়াইয়া কেমন চমৎকার ভাবে ঘরিয়া নাচিয়া গেল। পদাঙ্গালিমাত্রের উপর ভর করিয়া দীঘ সরল হইয়া কেমন ভঙ্গীটি করিয়া মহন্তকাল দাঁড়াইল, তাহার পর হস্যেহাস করিয়া সমস্ত উড়াইয়া ছড়াইয়া দিয়া কোথায় চলিয়া গেল তাহার ঠিকানা নাই। সবল তো ভারি! গোটাকতক খড়কুটা ধলোবালি সুবিধা-মতো যাহা হাতের কাছে আসে তাহাই লইয়া বেশ একটা ভাবভঙ্গী করিয়া কেমন একটি খেলা খেলিয়া লইল। এমনি করিয়া জনহীন মধ্যাহ্নে সমস্ত মাঠময় নাচিয়া বেড়ায় । না আছে তাহার কোনো উদ্দেশ্য, না আছে তাহার কেহ দশক, না আছে তাহার মত, না আছে তাহার তত্ত্ব, না আছে সমাজ এবং ইতিহাস সম্বন্ধে অতি সমীচীন উপদেশ–পথিবীতে যাহা-কিছু সবাপেক্ষা অনাবশ্যক, সেই-সমস্ত বিস্মত পরিত্যন্ত পদার্থগুলির মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফাংকার দিয়া তাহাদিগকে মহন্তকালের জন্য জীবিত জাগ্ৰত সন্দর করিয়া তোলে। অমনি যদি অত্যন্ত সহজে এক নিশবাসে কতকগুলো যাহা-তাহা খাড়া করিয়া সন্দের করিয়া ঘরাইয়া উড়াইয়া লাটিম খেলাইয়া চলিয়া যাইতে SO