পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ुन्| ১S১ Mষাশেষে ঐ গুটি-অাঁকা গোল গোল গছ গুচ্ছ ফলে প্রত্যেক শাখা আর কি ভরিয়া যায়। তখন সমস্ত দিন এক পায়ের উপর দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া ভাবিতে থাকে, আমার কেবল কতকগলা পাতা হইল কেন, পাখা হইল না কেন। প্রাণপণে সিধা হইয়া এত উচু হইয়া দাঁড়াইয়া আছি, তব কেন যথেষ্ট পরিমাণে দেখিতে পাইতেছি না। ঐ দিগন্তের পরপারে কী আছে; ঐ আকাশের তারাগলি যে গাছের শাখায় ফটিয়া আছে সে গাছ কেমন করিয়া নাগাল পাইব । আমি কোথা হইতে আসিলাম, কোথায় যাইব, এ কথা যতক্ষণ না সিথর হইবে ততক্ষণ আমি পাতা ঝরাইয়া, ডাল শুকাইয়া, কাঠ হইয়া দাঁড়াইয়া ধ্যান করিতে থাকিব। আমি আছি অথবা আমি নাই, অথবা আমি আছিও বটে নাইও বটে, এ প্রশেনর যতক্ষণ মীমাংসা না হয় ততক্ষণ আমার "জীবনে কোনো সুখ নাই। দীঘ বর্ষার পর যেদিন প্রাতঃকালে প্রথম সন্য’ ওঠে সেদিন আমার মজার মধ্যে যে একটি পলকসঞ্চার হয় সেটা আমি ঠিক কেমন করিয়া প্রকাশ করিব, এবং শীতাতে ফালগমনের মাঝামাঝি যেদিন হঠাৎ সায়ংকালে একটা দক্ষিণের বাতাস ওঠে, সেদিন ইচ্ছা করে—কী ইচ্ছা করে কে আমাকে বঝাইয়া দিবে: এই-সমস্ত কাণ্ড! গেল বেচারার ফলে ফোটানো, রসশস্যপণে আতাফল পাকানো। যাহা আছে তাহা অপেক্ষা বেশি হইবার চেষ্টা করিয়া, যে রকম আছে আর-এক রকম হইবার ইচ্ছা করিয়া, না হয় এ দিক, না হয় ও দিক। অবশেষে একদিন হঠাৎ অন্তবেদনায় গড়ি হইতে অগ্রশাখা পর্যন্ত বিদীর্ণ হইয়া বাহির হয়—একটা সাময়িক পত্রের প্রবন্ধ, একটা সমালোচনা, অরণ্যসমাজ সম্বন্ধে একটা অসাময়িক তত্ত্বোপদেশ। তাহার মধ্যে না থাকে সেই পল্লবমমর, মা থাকে সেই ছায়া, না থাকে সবাঙ্গব্যাপ্ত সরস সম্পর্ণেতা। যদি কোনো প্রবল শয়তান সরীসৃপের মতো লাকাইয়া মাটির নীচে প্রবেশ করিয়া শতলক্ষ অকিবাঁকা শিকড়ের ভিতর দিয়া পথিবীর সমস্ত তরলতাতৃণগমের মধ্যে মনঃসঞ্চার করিয়া দেয় তাহা হইলে পথিবীতে কোথায় জড়াইবার স্থান থাকে! ভাগ্যে বাগানে আসিয়া পাখির গানের মধ্যে কোনো অথ পাওয়া যায় না এবং অক্ষরহীন সবুজ পত্রের পরিবতে' শাখায় শাখায় শাক বেতবণ মাসিকপত্র সংবাদপত্র এবং বিজ্ঞাপন ঝুলিতে দেখা যায় না। ভাগ্যে গাছেদের মধ্যে চিন্তাশীলতা নাই। ভাগ্যে ধাতুরাগাছ কামিনী \ছবিতা নাই এবং বুলফল কাঁঠালকে বলে না তুমি আপনাকে বড়ো মনু কর কিন্তু আমি তোমা অপেক্ষা কুমাণ্ডকে ঢের উচ্চ আসন দিই। কদলী