পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছাত্রদের প্রতি সম্ভাষণ s তাহাদের তুলনাগত ব্যাকরণই যথাৰ্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাকরণ। আমাদের ছাত্রগণ সমবেতভাবে কাজ করিতে থাকিলে এই বিচিত্র উপভাষার উপকরণগুলি সংগ্রহ করা কঠিন হইবে না। বাংলায় এমন প্রদেশ নাই যেখানে স্থানে পথানে প্রাকৃত লোকদের মধ্যে নতন নতন ধর্মসম্প্রদায়ের সষ্টি না হইতেছে। শিক্ষিত লোকেরা এগুলির কোনো খবরই রাখেন না। তাঁহারা এ কথা মনেই করেন না, প্রকাণ্ড জনসম্প্রদায় অলক্ষ্যগতিতে নিঃশব্দচরণে চলিয়াছে। আমরা অবজ্ঞা করিয়া তাহাদের দিকে তাকাই না বলিয়া যে তাহারা স্থির হইয়া বসিয়া আছে তাহা নহে—নতন সে পরিবতন কোন পথে চলিতেছে, কোন রপ ধারণ করিতেছে, তাহা না জানিলে দেশকে জানা হয় না। শুধ যে দেশকে জানাই চরম লক্ষ্য, তাহা আমি বলি না—যেখানেই হউক না কেন, মানব-সাধারণের মধ্যে যা-কিছ ক্লিয়া প্রতিক্লিয়া চলিতেছে, তাহা ভালো করিয়া জানারই একটা সার্থকতা আছে, পুথি ছাড়িয়া সজীব মানুষকে প্রত্যক্ষ পড়িবার চেষ্টা করাতেই একটা শিক্ষা আছে; তাহাতে শধে জানা নয়, কিন্তু জানিবার শক্তির এমন একটা বিকাশ হয় যে, কোনো ক্লাসের পড়ায় তাহা হইতেই পারে না। ছাত্ৰগণ যদি সব সব প্রদেশের নিম্নশ্রেণীর লোকের মধ্যে যে-সমস্ত ধম সম্প্রদায় আছে তাহদের বিবরণ সংগ্ৰহ করিয়া আনিতে পারেন, তবে মন দিয়া মানুষের প্রতি দষ্টিপাত করিবার যে একটা শিক্ষা তাহাও লাভ করিবেন এবং সেইসঙ্গে দেশেরও কাজ করিতে পারিবেন।

  • আমরা নতত্ত্ব অর্থাৎ ethnologyর বই যে পড়ি না তাহা নহে, কিন্তু যখন দেখিতে পাই, সেই বই পড়ার দরন আমাদের ঘরের পাশে যে হাড়ি ডোম কৈবত বাগদি রহিয়াছে তাহাদের সম্পণে পরিচয় পাইবার জন্য আমাদের লেশমাত্র ঔৎসুক্য জন্মে না, তখনই বঝিতে পারি পথি সম্বন্ধে আমাদের কত বড়ো একটা কুসংস্কার জমিয়া গেছে—পথিকে আমরা কত বড়ো মনে করি এবং পথি যাহার প্রতিবিম্বব তাহাকে কতই তুচ্ছ বলিয়া জানি। কিন্তু জ্ঞানের সেই আদিনিকেতনে একবার যদি জড়ত্ব ত্যাগ করিয়া প্রবেশ করি তাহা হইলে আমাদের ঔৎসক্যের সীমা থাকিবে না। আমাদের ছাত্রগণ যদি তাঁহাদের এই-সকল প্রতিবেশীদের সমস্ত খোঁজে একবার ভালো করিয়া নিযন্তে হন তবে কাজের মধ্যেই কাজের পরিস্কার পাইবেন তাহাতে সন্দেহ नाएँ । /

সন্ধান ও সংগ্ৰহ করিবার বিষয় এমন কত আছে তাহার সীমা নাই।