পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$85 সংকলন ক্ষিতি কহিল, "আমাদের প্রত্যেকের ভিতরে যে এমন একটা বহৎ কাব্যকাণ্ড চলিতেছে শনিয়া পলকিত হইলাম। কিন্তু সরলা কায়াটির প্রতি চঞ্চলস্বভাব আত্মাটার ব্যবহার সন্তোষজনক নহে, ইহা স্বীকার করিতেই হইবে। আমি একান্তমনে আশা করি যেন আমার জীবাত্মা এরপ চপলতা প্রকাশ না করিয়া অন্তত কিছর দীর্ঘকাল দেহ-দেবযানীর আশ্রমে স্থায়ীভাবে বাস করে। তোমরাও সেই আশীবাদ করো। ব্যোম চৌকিতে ঠেসান দিয়া বসিয়া জানালার উপর দই পা তুলিয়া দিল। ক্ষিতি কহিল, যদি অবসর পাই তবে আমিও একটা তাৎপর্য শনাইতে পারি। আমি দেখিতেছি, এভোল্যাশন থিয়োরি অথাৎ অভিব্যক্তিবাদের মোট কথাটা এই কবিতার মধ্যে রহিয়া গিয়াছে। সঞ্জীবনী-বিদ্যাটার অর্থ, বাঁচিয়া থাকিবার বিদ্যা। সংসারে স্পষ্টই দেখা যাইতেছে, একটা লোক সেই বিদ্যাটা অহরহ অভ্যাস করিতেছে—সহস্র বৎসর কেন, লক্ষ সহস্ৰ বৎসর ধরিয়া। কিন্তু যাহাকে অবলম্ববন করিয়া সে সেই বিদ্যা অভ্যাস করিতেছে, সেই প্রাণীবংশের প্রতি তাহার কেবল ক্ষণিক প্রেম দেখা যায়। যেই একটা পরিচ্ছেদ সমাপ্ত হইয়া যায় অমনি নিষ্ঠর প্রেমিক, চঞ্চল অতিথি তাহাকে অকাতরে ধ্বংসের মখে ফেলিয়া দিয়া চলিয়া যায়। পথিবীর সতরে স্তরে এই নিদয় বিদায়ের বিলাপগান প্রস্তরপটে অঙ্কিত রহিয়াছে।" দীপিত ক্ষিতির কথা শেষ হইতে না হইতেই বিরক্ত হইয়া কহিল, তোমরা এমন করিয়া যদি তাৎপর্য বাহির করিতে থাক তাহা হইলে তাৎপষের সীমা থাকে না। কাঠকে দগধ করিয়া দিয়া অগ্নির বিদায়গ্রহণ, গনটি কাটিয়া ফেলিয়া প্রজাপতির পলায়ন, ফলকে বিশীর্ণ করিয়া ফলের বহিরাগমন, বীজকে বিদীর্ণ করিয়া অঙ্কুরের উদ্গম, এমন রাশি রাশি তাৎপয মতপোকার করা যাইতে পারে।' বোম গভীরভাবে করিতে লাগিল, ঠিক বটে। ওগলা তাৎপৰ্য নহে, দষ্টান্ত মাত্র। উহাদের ভিতরকার আসল কথাটা এই সংসারে আমরা অন্তত দুই পা ব্যবহার না করিয়া চলিতে পারি না। বাম পদ যখন পশ্চাতে আবন্ধ থাকে দক্ষিণ পদ সম্মখে অগ্রসর হইয়া যায়, আবার দক্ষিণ পদ সম্মুখে আবদ্ধ হইলে পর বাম পদ আপন বন্ধন ছেদন করিয়া আগে ধাবিত হয়। আমরা একবার করিয়া আপনাকে বধি, আবার পরক্ষণেই সেই বন্ধন ছেদন করি। আমাদিগকে ভালোবাসিতেও হইবে এবং সে ভালোবাসা কাটিতেও হইবে—সংসারের এই মহত্তম দুঃখ, এবং এই মহৎ দঃখের মধ্য দিয়াই আমাদিগকে অগ্রসর হইতে হয়। সমাজ সম্ভবন্ধেও এ কথা খাটে। নতন