পাতা:সংকলন (১৯২৬) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাব্যের তাৎপষ* Տ8Գ নিয়ম যখন কালক্রমে প্রাচীন প্রথা-রপে আমাদিগকে এক স্থানে আবদ্ধ করে তখন সমাজবিপ্লব আসিয়া তাহাকে উৎপাটনপবক আমাদিগকে মন্তি দান করে। যে পা ফেলি সে পা পরক্ষণে তুলিয়া লইতে হয়, নতুবা চলা হয় না— অতএব অগ্রসর হওয়ার মধ্যে পদে পদে বিচ্ছেদবেদনা—ইহা বিধাতার বিধান।' সমীর কহিল, গল্পটার সবশেষে যে একটি অভিশাপ আছে তোমরা কেহ সেটার উল্লেখ কর নাই। কচ যখন বিদ্যা লাভ করিয়া দেবযানীর প্রেমবন্ধন বিচ্ছিন্ন করিয়া যাত্রা করেন তখন দেবযানী তাঁহাকে অভিশাপ দিলেন যে, তুমি ষে বিদ্যা শিক্ষা করিলে সে বিদ্যা অন্যকে শিক্ষা দিতে পারবে কিন্তু নিজে ব্যবহার করিতে পরিবে না; আমি সেই অভিশাপ-সমেত একটা তাৎপৰ্য বাহির করিয়াছি, যদি ধৈর্য থাকে তো বলি। ক্ষিতি কহিল, ধৈর্য থাকিবে কি না পাবে হইতে বলিতে পারি না, প্রতিজ্ঞা করিয়া বসিয়া শেষে প্রতিজ্ঞা রক্ষা না হইতেও পারে। তুমি তো আরম্ভ করিয়া দাও, শেষে যদি অবস্থা বুঝিয়া তোমার দয়ার সঞ্চার হয় থামিয়া গেলেই হইবে।” সমীর কহিল, ‘ভালো করিয়া জীবনধারণ করিবার বিদ্যাকে সঞ্জীবনী-বিদ্যা বলা যাক। মনে করা যাক, কোনো কবি সেই বিদ্যা নিজে শিখিয়া অন্যকে দান করিবার জন্য জগতে আসিয়াছে। সে তাহার সহজ স্বগীয় ক্ষমতায় সংসারকে বিমুগ্ধ করিয়া সংসারের কাছ হইতে সেই বিদ্যা উদ্ধার করিয়া লইল। সে যে সংসারকে ভালোবাসিল না তাহা নহে, কিন্তু সংসার যখন তাহাকে বলিল, “তুমি আমার বন্ধনে ধরা দাও" সে কহিল, "ধরা যদি দিই, তোমার আবতের মধ্যে যদি আকৃষ্ট হই, তাহা হইলে এ সঞ্জীবনী-বিদ্যা আমি শিখাইতে পারিব না; সংসারের সকলের মধ্যে থাকিয়াও আপনাকে বিচ্ছিন্ন রাখিতে হইবে।” তখন সংসার তাহাকে অভিশাপ দিল, “তুমি যে বিদ্যা আমার নিকট হইতে প্রাপ্ত হইয়াছ সে বিদ্যা অন্যকে দান করিতে পরিবে, কিন্তু নিজে ব্যবহার করিতে পরিবে না।" সংসারের এই অভিশাপ থাকাতে প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায় যে, গরের শিক্ষা ছাত্রের কাজে লাগিতেছে, কিন্তু সংসারজ্ঞান নিজের জীবনে ব্যবহার করিতে তিনি বালকের ন্যায় অপট। তাহার কারণ, নিলি"তভাবে বাহির হইতে বিদ্যা শিখিলে বিদ্যাটা ভালো করিয়া পাওয়া যাইতে পারে, কিন্তু সবাদা কাজের মধ্যে লিপ্ত হইয়া না থাকিলে তাহার প্রয়োগ শিক্ষা হয় না। তোমরা যে-সকল কথা তুলিয়াছিলে সেগলা বড়ো বেশি সাধারণ কথা। মনে করো যদি বলা যায়, রামায়ণের তাৎপর্য এই যে, রাজার গহে জন্মিয়াও